ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসনে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্য ও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দলীয়করণের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, প্রশাসনিক কোনো প্রয়োজনীয়তা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক ও কর্মচারীসহ প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বলয় তৈরি করা।

বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগে চরম স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যার নিয়োগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে ফিন্যান্স বিভাগে উপ-উপাচার্যের কন্যা মাহীরা শামীমকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্স বিভাগের চারটি পদের বিপরীতে ৫১ জন প্রার্থী আবেদন করলেও অনেক যোগ্য প্রার্থীকে সুকৌশলে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রদল আরও জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক। ডাকযোগে পরীক্ষার তারিখ জানানো, নামমাত্র ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং একই দিনে ফলাফল প্রকাশ করার মতো ঘটনাগুলো পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি মেধাতালিকায় ১২তম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় উপ-উপাচার্যের কন্যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।

এছাড়া ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় প্রধানদের আপত্তি ও প্রকৃত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রদল চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবিগুলো হলো— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ, বিতর্কিত সব নিয়োগ বাতিল, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা মেধার অবমূল্যায়ন সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অবৈধ নিয়োগ বাতিল না করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি ছাত্রদলের

আপডেট সময় : ১০:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রশাসনে নজিরবিহীন নিয়োগ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে নিয়োগ বাণিজ্য ও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দলীয়করণের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, প্রশাসনিক কোনো প্রয়োজনীয়তা না থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ মাসে শিক্ষক ও কর্মচারীসহ প্রায় ২৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ৩০৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৫৪ জনের এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বলয় তৈরি করা।

বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগে চরম স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খানের কন্যার নিয়োগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে ফিন্যান্স বিভাগে উপ-উপাচার্যের কন্যা মাহীরা শামীমকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্স বিভাগের চারটি পদের বিপরীতে ৫১ জন প্রার্থী আবেদন করলেও অনেক যোগ্য প্রার্থীকে সুকৌশলে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রদল আরও জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত রহস্যজনক। ডাকযোগে পরীক্ষার তারিখ জানানো, নামমাত্র ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং একই দিনে ফলাফল প্রকাশ করার মতো ঘটনাগুলো পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনকি মেধাতালিকায় ১২তম অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বিশেষ বিবেচনায় উপ-উপাচার্যের কন্যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।

এছাড়া ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় প্রধানদের আপত্তি ও প্রকৃত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রদল চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের দাবিগুলো হলো— চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ, বিতর্কিত সব নিয়োগ বাতিল, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা মেধার অবমূল্যায়ন সহ্য করা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অবৈধ নিয়োগ বাতিল না করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।