যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে তেহরান। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তেহরান ইতিমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহারের পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করেছে। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোই হবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু।
অঞ্চলটিতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বর্তমানে কূটনৈতিক যোগাযোগেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের যে সরাসরি আলোচনার পথ খোলা ছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদিও এই সম্ভাব্য অভিযানের পরিধি বা সময়সূচী সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও বাহরাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর অত্যন্ত কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আল উদেইদ ঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এই সেনা স্থানান্তরের বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















