দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সংকট নিরসনে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারল্য সংকটে ধুঁকতে থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫—এই দুই বছর তাঁদের জমাকৃত অর্থের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশনা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার আওতায় আসা ব্যাংকগুলো হলো— সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পাঁচটি ব্যাংকের দায়, সম্পদ এবং জনবল নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর অধীনে ন্যস্ত করা হচ্ছে। একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন হলে এই পাঁচটি ব্যাংকের বর্তমান অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ব্যাংক খাতে চলমান ‘ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সব আমানত হিসাবের স্থিতি নতুন করে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য আমানতের ওপর কোনো মুনাফা হিসাবভুক্ত করা হবে না। এছাড়া নির্ধারিত ‘হেয়ারকাট’ বা কাটছাঁট পদ্ধতি প্রয়োগ করে আমানতের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেজুলেশন স্কিমের অভিন্ন ও সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দ্রুততার সঙ্গে এই পুনর্গণনা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত এই দুই বছরের অর্জিত মুনাফা বাদ দিয়েই গ্রাহকদের আমানতের প্রকৃত স্থিতি চূড়ান্ত করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























