ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন শ্রম আইন, আরপিওতে ইভিএম বিলুপ্তি ও ‘না’ ভোটের বিধান: আইন উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে উপদেষ্টা পরিষদ শ্রম আইন ও অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডার এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনে ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আরপিও সংশোধনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় আর্মি, নেভি এবং এয়ারফোর্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জেলার নির্বাচন অফিসগুলো ঠিক করবেন।

আসিফ নজরুল জানান, যারা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, তাদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে তাদের যত আয় এবং সম্পত্তি আছে তার সমস্ত বিবরণ দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি আয়ের উৎস এবং সম্পত্তির বিবরণ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে এবং তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা হয়েছে। এর ফলে, যদি কোনো নির্বাচনে মাত্র একজন প্রার্থী থাকেন (যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন), তবে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন এবং সেখানে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, নির্বাচনে রাজনৈতিক জোট হিসেবে অংশ নিলে তাদের দলীয় প্রতীকেই অংশ নিতে হবে, যাতে ভোটাররা কোন দলকে ভোট দিচ্ছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। যারা নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না; এবার বিধান করা হয়েছে যে তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, গণমাধ্যমের কর্মীরা ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। আর রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দান, অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে তা অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে এবং যিনি দেবেন তাকে তার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আগে কোনো ভোট কেন্দ্রে গন্ডগোল হলে কেবল সেটির ফলাফল বাতিল করার বিধান ছিল। এখন নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্বাচনি পুরো এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, তাহলে নির্বাচন কমিশন সেই পুরো নির্বাচনি এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা পাবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

নতুন শ্রম আইন, আরপিওতে ইভিএম বিলুপ্তি ও ‘না’ ভোটের বিধান: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে উপদেষ্টা পরিষদ শ্রম আইন ও অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডার এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনে ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আরপিও সংশোধনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় আর্মি, নেভি এবং এয়ারফোর্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জেলার নির্বাচন অফিসগুলো ঠিক করবেন।

আসিফ নজরুল জানান, যারা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন, তাদের দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে তাদের যত আয় এবং সম্পত্তি আছে তার সমস্ত বিবরণ দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, প্রার্থীদের দেশি ও বিদেশি আয়ের উৎস এবং সম্পত্তির বিবরণ নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে এবং তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা হয়েছে। এর ফলে, যদি কোনো নির্বাচনে মাত্র একজন প্রার্থী থাকেন (যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন), তবে ভোটাররা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন এবং সেখানে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, নির্বাচনে রাজনৈতিক জোট হিসেবে অংশ নিলে তাদের দলীয় প্রতীকেই অংশ নিতে হবে, যাতে ভোটাররা কোন দলকে ভোট দিচ্ছেন সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। যারা নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না; এবার বিধান করা হয়েছে যে তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, গণমাধ্যমের কর্মীরা ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন। আর রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দান, অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে তা অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে এবং যিনি দেবেন তাকে তার ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের আগে কোনো ভোট কেন্দ্রে গন্ডগোল হলে কেবল সেটির ফলাফল বাতিল করার বিধান ছিল। এখন নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্বাচনি পুরো এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, তাহলে নির্বাচন কমিশন সেই পুরো নির্বাচনি এলাকার ভোট বাতিল করার ক্ষমতা পাবে।