কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে অন্তত ২ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছে বলে দাবি করেছে বিজেপি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দলটির রাজ্য শাখা এই অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও দ্রুত বহিষ্কারের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের দাবি জানিয়েছে।
কর্ণাটক বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা আর. অশোক এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করে রাজ্য সরকারকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং গত এক সপ্তাহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭১ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক অনুপ্রবেশকারী জাল আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি ব্যবহার করে স্থানীয় নাগরিকদের মতো পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরাও আদালতে জাল নথি জমা দিয়ে জামিন পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিজেপি নেতা দাবি করেছেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠের সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ বস্তি উচ্ছেদের পর সেখানে বসবাসকারীদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জি. পরমেশ্বর জানিয়েছেন যে, বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার এবং ডিজিপি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন রাজ্যে বসবাসরত সকল সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ বা তালিকা তৈরি করা হয়। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠের আনেকাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং যাদের কাছে বৈধ নথিপত্র নেই, তাদের আইন অনুযায়ী বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় এবং কেবল তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কিছু অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























