২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। বুধবার পাটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গকে ‘বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছেন। তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য অবৈধ বাংলাদেশিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং সারা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে সেখানেই আধার কার্ড তৈরি করছে। গিরিরাজ সিং আরও প্রশ্ন তোলেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী কোন ‘কালো ব্যাগ’ লুকাতে চাইছেন তা যেন তিনি স্পষ্ট করেন।
এর ঠিক এক দিন আগেই হাওড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লাখ নাম মুছে ফেলেছে। কেবল তাই নয়, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি নামক একটি অস্পষ্ট শ্রেণি তৈরি করে আরও ১ কোটি ৩৬ লাখ ভোটারকে শুনানির মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এই হয়রানিমূলক নোটিশের কারণে আতঙ্কে ও স্ট্রোকে এ পর্যন্ত ৮৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার দায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নদীয়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ‘অবৈধ’ ভোটারের তালিকা পাওয়া গেলেও দক্ষিণ কলকাতা বা বাঁকুড়ার মতো এলাকায় এখনো কোনো নাম ফ্ল্যাগ করা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড, বিহার ও ওড়িশা থেকে লোক এনে বাংলায় ভোট দেওয়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং পরিকল্পিতভাবে আসল ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























