জাতীয় পার্টি (জাপা), নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং এনডিএফ-এর প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি প্রদান করেছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণকারী জোট ‘জুলাই ঐক্য’।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জাতীয় পার্টি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক একটি জোট। তাদের প্রধান অভিযোগ হলো, বিগত সরকারের শাসনামলে দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যার দায়ে যে রাজনৈতিক শক্তিগুলো সরাসরি অভিযুক্ত, তাদের কোনোভাবেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তারা মনে করে, খুনি ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনার পরিপন্থী।
স্মারকলিপি প্রদানের আগে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন থেকে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে একটি বিশাল পদযাত্রা বের করেন জোটের নেতাকর্মীরা। পদযাত্রাটি নির্বাচন ভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে আন্দোলনকারীরা। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত প্লাবন তারিক ও মুসাদ্দেক আলি ইবনে মুহাম্মদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসি সচিবালয়ে প্রবেশ করে এবং অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করে। স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনে এখনও স্বৈরাচারের দোসররা বহাল রয়েছেন, যারা অতীতে বিতর্কিত নির্বাচন ও দমন-পীড়নের সাথে জড়িত ছিলেন। এমন প্রশাসনের অধীনে কোনোভাবেই একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
স্মারকলিপিতে প্রার্থিতা বাতিলের দাবির পাশাপাশি নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, ভোটগ্রহণের দিন দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার করা এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি গণহত্যাকারী এই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নির্বাচনি প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা না হয়, তবে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























