জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবং মানুষের মৌলিক অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে আগামী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ এক বছরের পরিকল্পনা শেষে এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় একদল তরুণ অ্যাকটিভিস্ট ও ছাত্রনেতা এই নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মটির নাম এখনও চূড়ান্ত না হলেও উদ্যোক্তাদের বার্তায় একে ‘নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই নতুন জোটে বাম ও মধ্যপন্থী ভাবাদর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি সর্বজনীন নাগরিক ঐক্যের ডাক দেওয়া হবে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা একঝাঁক গুরুত্বপূর্ণ নেতা যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায়, লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট তুহিন খান এবং আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাবেক নেতা অলিক মৃ। এছাড়া ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত এবং ছাত্র ইউনিয়নের বর্তমান নেতৃবৃন্দ এই প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত।
এনসিপির সাবেক নেতা অনিক রায় জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁরা ‘গণতান্ত্রিক অর্থনীতি’ এবং সামগ্রিকভাবে ‘সামাজিক গণতন্ত্রের’ রাজনীতি করতে চান। বিশেষ বিশেষ মতাদর্শের নামে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজন দূর করে শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সকল মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল অঙ্গীকার। সমাজে মতাদর্শিক কারণে ভিন্নমতের ওপর আক্রমণ বন্ধ করে সবাইকে ‘নাগরিক’ হিসেবে সমান মর্যাদা প্রদান করার দাবি তুলবে এই নতুন প্রয়াস।
প্রাথমিকভাবে এর প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘নিউ পলিটিক্যাল অ্যাকশন’, তবে চূড়ান্ত নাম ঘোষণার জন্য শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ ও ছাত্রনেতাদের এই জোট দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
রিপোর্টারের নাম 

























