যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তীব্র শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি হামলায় আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জরাজীর্ণ ভবন ও দেয়াল ধসে মঙ্গলবার অন্তত পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও এক কিশোরী রয়েছেন। এছাড়া হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
গাজার বৃহত্তম চিকিৎসা কেন্দ্র আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার গাজা সিটির উপকূলীয় এলাকায় একটি আট মিটার উঁচু দেয়াল ধসে একটি অস্থায়ী তাঁবুর ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন ৭২ বছর বয়সী মোহাম্মদ হামুদা, তার ১৫ বছর বয়সী নাতনি এবং পুত্রবধূ। ওই ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া গাজার পশ্চিমাঞ্চলে পৃথক একটি দেয়াল ধসের ঘটনায় আরও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, শীতজনিত অসুস্থতা ও তীব্র ঠান্ডায় (হাইপোথার্মিয়া) গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের এক শিশুসহ আরও অন্তত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে প্রচণ্ড ঠান্ডায়। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে গাজার জনজীবন এমনিতেই বিপর্যস্ত, তার ওপর এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, শক্তিশালী ঝড়ে গাজার শত শত তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়স্থল উড়ে গেছে অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে অধিকাংশ মানুষ তাদের নিরাপদ আশ্রয় হারিয়েছেন। বর্তমানে তারা যেসব ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নিচ্ছেন, ঝড়ের কারণে সেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় তাঁবু ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
যদিও গত ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে মানবিক সংস্থাগুলোর অভিযোগ—প্রয়োজনীয় কম্বল, পোশাক, ত্রিপল ও জরুরি জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী গাজায় প্রবেশে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে আশ্রয়হীন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে অথবা অনিরাপদ ধ্বংসস্তূপের মাঝে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















