আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) আয়োজিত ‘তরুণ ও কর্মসংস্থান: রাজনৈতিক চিন্তা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এই প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। আলোচনায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সিসিল বলেন, কর্মসংস্থান দীর্ঘকাল ধরেই বাংলাদেশিদের জন্য প্রধান অগ্রাধিকারের বিষয়। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা এখনো নিশ্চিত নন যে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এই মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর কোনো রোডম্যাপ তৈরি করছে কি না।
বৈঠকে শ্রমবাজারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আরএমএমআরইউ-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মারিনা সুলতানা জানান, প্রতি বছর প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ তরুণ বিদেশে পাড়ি জমালেও দক্ষতার অভাব ও কাজ না পাওয়ায় গত বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৪০ হাজার কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার ২০১০ সালের ৪.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট নিরসনে বিএনপির পলিসি টিমের সদস্য সাইয়েদ আবদুল্লাহ জানান, তাদের দল ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ শুরু করবে এবং আইটি খাত ও প্রবাসীদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণের ব্যবস্থা করবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা এবং উপজেলা পর্যায়ে ভাষাশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শিল্প বিকাশে দক্ষ জনশক্তির অভাব মেটাতে পাঠ্যক্রমের সংস্কার এবং কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং আকিজ-বশির গ্রুপের দিলরুবা এস খান শিল্প চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয়হীনতাকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এনসিপি-এর আরিফুল ইসলাম আদীব এবং গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আক্তারও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। সিপিডির তথ্যানুযায়ী, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন চরম সংকটে আছে, যা দূর করতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক নীতির মূল কেন্দ্রে আনার কোনো বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























