ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটে নির্বাচনী লড়াই: তিস্তার ইস্যু, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জাতীয় পার্টির দুর্বল অবস্থান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত লালমনিরহাট জেলা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরছেন। স্থানীয় ভোটারদের কাছে তিস্তা ইস্যুটি অত্যন্ত প্রাধান্য পাচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় প্রভাব ফেলছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে উঠেছে এবং কোন দলের অবস্থান কেমন হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীদের পক্ষে তাদের কর্মী-সমর্থকরাও কৌশলী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাট এখন অতীতের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জেলার রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাট-১ ও লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপি থেকে একক প্রার্থীর নাম বেশ আগেই ঘোষণা করা হলেও, লালমনিরহাট-২ আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখে দলের হাইকমান্ড। তবে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর অবশেষে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুলকে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী অনেক আগে থেকেই তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জেলার তিনটি আসনেই জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে দলটি লালমনিরহাটে তাদের সাংগঠনিক জৌলুস এবং জনসম্পৃক্ততা অনেকটাই হারিয়েছে। বিশেষ করে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দলটির কোনো উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম এই জেলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচনী সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

লালমনিরহাটে নির্বাচনী লড়াই: তিস্তার ইস্যু, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জাতীয় পার্টির দুর্বল অবস্থান

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

তিস্তা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত লালমনিরহাট জেলা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরছেন। স্থানীয় ভোটারদের কাছে তিস্তা ইস্যুটি অত্যন্ত প্রাধান্য পাচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় প্রভাব ফেলছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে উঠেছে এবং কোন দলের অবস্থান কেমন হবে তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীদের পক্ষে তাদের কর্মী-সমর্থকরাও কৌশলী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লালমনিরহাট এখন অতীতের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জেলার রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে। লালমনিরহাট-১ ও লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপি থেকে একক প্রার্থীর নাম বেশ আগেই ঘোষণা করা হলেও, লালমনিরহাট-২ আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখে দলের হাইকমান্ড। তবে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর অবশেষে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুলকে এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী অনেক আগে থেকেই তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জেলার তিনটি আসনেই জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে দলটি লালমনিরহাটে তাদের সাংগঠনিক জৌলুস এবং জনসম্পৃক্ততা অনেকটাই হারিয়েছে। বিশেষ করে, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দলটির কোনো উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম এই জেলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং স্থানীয় দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতা আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচনী সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।