ঢাকা ০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস: তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘর ছাড়ালো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের আট দিন পর অবশেষে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর অতিক্রম করেছে। যদিও তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছিল।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ধারাবাহিক ভাবে ৬ জানুয়ারি ৭.৫, ৭ জানুয়ারি ৭.০, ৮ জানুয়ারি ৮.০, ৯ জানুয়ারি ৮.৫, ১০ জানুয়ারি ৮.৩, ১১ জানুয়ারি ৮.৬ এবং ১২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশেষে আজ (১৩ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত আট দিনের তুলনায় এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিছুটা হলেও শীতের প্রকোপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে জেলার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৬৪৬টি কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ১৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এসেছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় ৪০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে।

তীব্র শীতের কারণে জনজীবনে জন জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে ভোরবেলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য এটি ছিল এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। সাইদুর রহমান নামে একজন শ্রমিক জানান, “ভোরে মাঠে এসে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই কনকনে ঠাণ্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ করা অত্যন্ত কঠিন। কুয়াশা আর তীব্র শীতে ফসলেরও কিছু ক্ষতি হচ্ছে।”

সকালে হাঁটতে বের হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন নাহার বলেন, “ভোরের নামাজের পর বাইরে বের হলে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে, ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এই শীতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।”

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তদন্তে ত্রুটি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, রায় ৯ এপ্রিল

চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস: তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘর ছাড়ালো

আপডেট সময় : ১০:৪৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের আট দিন পর অবশেষে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘর অতিক্রম করেছে। যদিও তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে অবস্থান করছিল।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৫ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ধারাবাহিক ভাবে ৬ জানুয়ারি ৭.৫, ৭ জানুয়ারি ৭.০, ৮ জানুয়ারি ৮.০, ৯ জানুয়ারি ৮.৫, ১০ জানুয়ারি ৮.৩, ১১ জানুয়ারি ৮.৬ এবং ১২ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশেষে আজ (১৩ জানুয়ারি) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত আট দিনের তুলনায় এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিছুটা হলেও শীতের প্রকোপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে জেলার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারিভাবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৬৪৬টি কম্বল বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, ১৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা এসেছে, যা দিয়ে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র কিনে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারকারী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় ৪০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে।

তীব্র শীতের কারণে জনজীবনে জন জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে ভোরবেলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য এটি ছিল এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। সাইদুর রহমান নামে একজন শ্রমিক জানান, “ভোরে মাঠে এসে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই কনকনে ঠাণ্ডায় বোরো ধানের চারা রোপণ করা অত্যন্ত কঠিন। কুয়াশা আর তীব্র শীতে ফসলেরও কিছু ক্ষতি হচ্ছে।”

সকালে হাঁটতে বের হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন নাহার বলেন, “ভোরের নামাজের পর বাইরে বের হলে চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে, ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। এই শীতে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়ে গেছে, বিশেষ করে শিশু ও মায়েরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে।”

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে।