ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও জনমনে অস্থিরতা ছড়ানোর অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, আটককৃতদের সঙ্গে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে এবং তারা দেশটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীল নকশা বাস্তবায়নে কাজ করছিল।
আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং সুসংগঠিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম, হালকা আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, আটক ব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে বিক্ষোভকে চরমপন্থার দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের শেষদিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে অর্থনৈতিক দাবি ছাপিয়ে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের আন্দোলনে রূপ নেয়, যা তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ইরান সরকার ও আইআরজিসি শুরু থেকেই এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিদেশি শক্তিগুলোকে দায়ী করে আসছে। তেহরানের দাবি, অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে বিদেশি মদদে এই সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তেহরানের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমেছে এবং অধিকাংশ প্রতিবাদই ছিল শান্তিপূর্ণ।
বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি এবং হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ইরান সরকার। আইআরজিসি জানিয়েছে, বিদেশি ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 























