গাজা যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শীর্ষ নেতাদের হারানোর প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তাদের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংগঠনটি। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
হামাসের দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে ৫০ সদস্যের একটি নতুন ‘শুরা কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত এই কাউন্সিলটি সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে। সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর হামাসের তিনটি প্রধান শাখা—গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতৃত্ব—নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
যুদ্ধপূর্ব সময়ে হামাসের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সাধারণত মসজিদ বা গোপন বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। নবগঠিত এই শুরা কাউন্সিলের ওপরই দায়িত্ব থাকবে সংগঠনের রাজনৈতিক ব্যুরো এবং সামগ্রিক প্রধান নির্বাচনের।
নতুন নেতৃত্বের দৌড়ে বর্তমানে দুই প্রভাবশালী নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তাদের একজন হলেন গাজা শাখার প্রভাবশালী নেতা খলিল আল-হাইয়া এবং অন্যজন প্রবাসে অবস্থানরত শীর্ষ নেতা খালেদ মেশাল। জানা গেছে, খলিল আল-হাইয়া গাজা শাখা এবং সংগঠনের সামরিক শাখা ‘এজ্জেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেড’-এর জোরালো সমর্থন পাচ্ছেন। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন পশ্চিম তীরের নেতা জাহের জাবারিন এবং শুরা কাউন্সিলের প্রভাবশালী সদস্য নিজার আওয়াদাল্লাহ।
হামাস সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা সম্ভব হলে তা গাজার বাসিন্দাদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচনকে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনের এই স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।
রিপোর্টারের নাম 























