ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা আর চাকরির বাজারের ফারাক কমাতে একজোট হওয়ার ডাক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

দেশে আরও বেশি কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যেকার দূরত্ব কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সাজেদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘শ্রেণিকক্ষ থেকে ক্যারিয়ার: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এই আহ্বান জানান।

বক্তারা পরামর্শ দেন, শিক্ষা ও কাজের বাজারের এই ব্যবধান কমাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই নতুন নতুন উপায়ে অর্থায়নসহ প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা দিতে হবে।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করার সময় সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও সাবেক কূটনীতিক ফারুক সোবহান বলেন, শুধু শিক্ষার নিম্নমানের কারণেই বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে, যাদের অর্থনীতি একসময় বাংলাদেশের তুলনায় দুর্বল ছিল।

তিনি আরও বলেন, একসময় বাংলাদেশ এশিয়ার চারটি দেশ—চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম—থেকে এগিয়ে ছিল, কিন্তু এখন সব দেশই আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই অগ্রগতির মূল কারণ হলো শিক্ষা। যা ছিল মানসম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য শিক্ষা।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা বাংলাদেশেও এটা করতে পারি। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে যা আমাদের পার হতে হবে। শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য আমাদের একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।’ তিনি মানসম্মত শিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে শিক্ষাকে আরও উপযোগী করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে সরকারি নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীরা এই গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেন।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদা ফিজ্জা কবির তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে, যখন আমরা তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে পারব। যদি শিক্ষা আজকের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চলে, তাহলে আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতি লভ্যাংশ) সহজেই বোঝা বা সমস্যায় পরিণত হতে পারে।’

খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাল খান অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণে প্রযুক্তির বড় ধরনের ভূমিকা রাখার কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের তাদের নিজস্ব স্টাইলে শেখানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। উদ্ভাবন, সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠার সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের আছে।

তিনি খান একাডেমির সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং ‘স্থানীয় অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা কীভাবে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে পারে, এটি তার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে ৩১টি পাইলট স্কুল ও ৫ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থীর ওপর খান একাডেমি-পরিচালিত একটি পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা নয় গুণ এবং অংশগ্রহণ ছয় গুণ বেড়েছে।

এই অগ্রগতি তুলে ধরার সময় খান একাডেমি বাংলাদেশের সিইও এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজি লিড ফর এডুকেশন আজওয়া নাঈম বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা এখন প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার জন্য ডেটা ও ডিজিটাল টুল ব্যবহার করছেন। ‘ফলাফল থেকে দেখা যায়, পরিবর্তন কেবল তখনই সম্ভব, যখন শিক্ষকদের ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সঠিক উপকরণ দিয়ে সাহায্য করা হয়,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম চৌধুরী, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ সাদ বিন শামস, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজিথ মিওয়ানেজ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিয়া রশিদ, খান একাডেমির ব্যবস্থাপক (আন্তর্জাতিক কৌশল ও পরিচালনা) এমিলি গোল্ডম্যান, কাজী ফার্মসের পরিচালক জাহিন হাসান, নেসলের মানবসম্পদ পরিচালক হোসনে আরা লোমা, সরকারের এলএআইএসই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শিপন কুমার দাস, আগামী এডুটেক-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দিলরুবা চৌধুরী, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ রিয়াদ এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম ও ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক।

একবিংশ শতাব্দীর কর্মীদের জন্য শিক্ষাকে আরও উপযোগী করে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি খাত কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে সম্পর্কে নিজেদের মতামত দেন আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা। তারা গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল প্রস্তুতি, সুক্ষ্মচিন্তন, সমস্যা সমাধান এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তারা অভিমত দেন, এখন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আবার ভাবার সময় এসেছে, যাতে এটা নিশ্চিত করা যায় যে প্রতিটি তরুণ কেবল জ্ঞান নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে না; অর্থবহ ক্যারিয়ার গড়ার এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসও নিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

শিক্ষা আর চাকরির বাজারের ফারাক কমাতে একজোট হওয়ার ডাক

আপডেট সময় : ১০:০০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

দেশে আরও বেশি কর্মদক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যেকার দূরত্ব কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সাজেদা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘শ্রেণিকক্ষ থেকে ক্যারিয়ার: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এই আহ্বান জানান।

বক্তারা পরামর্শ দেন, শিক্ষা ও কাজের বাজারের এই ব্যবধান কমাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব তৈরি করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই নতুন নতুন উপায়ে অর্থায়নসহ প্রয়োজনীয় সবরকম সহযোগিতা দিতে হবে।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করার সময় সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও সাবেক কূটনীতিক ফারুক সোবহান বলেন, শুধু শিক্ষার নিম্নমানের কারণেই বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে, যাদের অর্থনীতি একসময় বাংলাদেশের তুলনায় দুর্বল ছিল।

তিনি আরও বলেন, একসময় বাংলাদেশ এশিয়ার চারটি দেশ—চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম—থেকে এগিয়ে ছিল, কিন্তু এখন সব দেশই আমাদের ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই অগ্রগতির মূল কারণ হলো শিক্ষা। যা ছিল মানসম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য শিক্ষা।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা বাংলাদেশেও এটা করতে পারি। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে যা আমাদের পার হতে হবে। শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য আমাদের একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।’ তিনি মানসম্মত শিক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশ কীভাবে শিক্ষাকে আরও উপযোগী করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করতে সরকারি নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীরা এই গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেন।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদা ফিজ্জা কবির তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনগোষ্ঠী নিয়ে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে, যখন আমরা তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে পারব। যদি শিক্ষা আজকের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চলে, তাহলে আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতি লভ্যাংশ) সহজেই বোঝা বা সমস্যায় পরিণত হতে পারে।’

খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাল খান অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার গণতন্ত্রীকরণে প্রযুক্তির বড় ধরনের ভূমিকা রাখার কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের তাদের নিজস্ব স্টাইলে শেখানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়, তখন খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। উদ্ভাবন, সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের নিষ্ঠার সমন্বয়ের মাধ্যমে এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের আছে।

তিনি খান একাডেমির সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং ‘স্থানীয় অংশীদারত্ব এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা কীভাবে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে পারে, এটি তার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে ৩১টি পাইলট স্কুল ও ৫ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থীর ওপর খান একাডেমি-পরিচালিত একটি পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা নয় গুণ এবং অংশগ্রহণ ছয় গুণ বেড়েছে।

এই অগ্রগতি তুলে ধরার সময় খান একাডেমি বাংলাদেশের সিইও এবং সাজেদা ফাউন্ডেশনের স্ট্র্যাটেজি লিড ফর এডুকেশন আজওয়া নাঈম বলেন, স্কুলের শিক্ষকরা এখন প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার জন্য ডেটা ও ডিজিটাল টুল ব্যবহার করছেন। ‘ফলাফল থেকে দেখা যায়, পরিবর্তন কেবল তখনই সম্ভব, যখন শিক্ষকদের ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং সঠিক উপকরণ দিয়ে সাহায্য করা হয়,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা চৌধুরী, প্রাইম ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম চৌধুরী, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ সাদ বিন শামস, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাজিথ মিওয়ানেজ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাদিয়া রশিদ, খান একাডেমির ব্যবস্থাপক (আন্তর্জাতিক কৌশল ও পরিচালনা) এমিলি গোল্ডম্যান, কাজী ফার্মসের পরিচালক জাহিন হাসান, নেসলের মানবসম্পদ পরিচালক হোসনে আরা লোমা, সরকারের এলএআইএসই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক শিপন কুমার দাস, আগামী এডুটেক-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর দিলরুবা চৌধুরী, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ রিয়াদ এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম ও ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক।

একবিংশ শতাব্দীর কর্মীদের জন্য শিক্ষাকে আরও উপযোগী করে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি খাত কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে সম্পর্কে নিজেদের মতামত দেন আলোচনার অংশগ্রহণকারীরা। তারা গণিত, বিজ্ঞান ও ভাষায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল প্রস্তুতি, সুক্ষ্মচিন্তন, সমস্যা সমাধান এবং যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তারা অভিমত দেন, এখন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আবার ভাবার সময় এসেছে, যাতে এটা নিশ্চিত করা যায় যে প্রতিটি তরুণ কেবল জ্ঞান নিয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে না; অর্থবহ ক্যারিয়ার গড়ার এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসও নিয়ে যাচ্ছে।