ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নতুন করে নাগরিকত্ব সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। রাজ্যটির মুর্শিদাবাদ জেলার বাহুতলী গ্রামের বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের পরিবার এখন নিজ দেশেই পরিচয়হীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি দেশটির নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পর আমিনুলের ১২ সদস্যের যৌথ পরিবারের ৯ জনের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। বৈধ সব নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় তারা নানা ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমিনুলের বৃদ্ধ মা নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, তার চিকিৎসক বোন বিদেশে চাকরির সুযোগ পেলেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় পাসপোর্ট করতে পারছেন না। কেবল আমিনুল নন, একই হাহাকার শোনা যাচ্ছে আরও অনেকের কণ্ঠে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার বদলে বিভিন্ন মহল থেকে তাদের দেশত্যাগের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৯২ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে হয় চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে অথবা ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশই মুসলিম। পরিসংখ্যান বলছে, নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় এই বৈষম্য আরও প্রকট। যেমন নন্দীগ্রামে মুসলিম জনসংখ্যা ২৫ শতাংশ হলেও বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি মুসলিম। একইভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও মুসলিম ভোটারদের ক্ষেত্রে নাম বাদ পড়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এই পদ্ধতিগত সংকট পশ্চিমবঙ্গের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























