আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আটঘাট বেঁধে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের রাজনৈতিক জোট। নির্বাচনের মাঠ জয়ের লক্ষ্যে ইশতেহার তৈরি থেকে শুরু করে আসন সমঝোতা—সব ক্ষেত্রেই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। জোটের উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটটি বর্তমানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে প্রতিটি আসনের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। আগামীকালকের ঘোষণার মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে ১১ দলের শরিকরা কে কতটি আসনে জোটবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। জোটের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি নিরপেক্ষ জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে, যার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই এই জটিল আসন বণ্টন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জামায়াতের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের ইশতেহার হবে স্মরণকালের সবচেয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী। বিশেষ করে গত বছরের জুলাই আন্দোলন সফল করা ‘জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জোটের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পরপরই তরুণরা বেকার না থেকে সরাসরি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারেন। এ ছাড়া নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ তৈরির ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে জোটটি। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছেন যে, কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের সময় দেওয়ার সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা শিথিল করার মতো বৈপ্লবিক পরিকল্পনা তাদের ইশতেহারে থাকছে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমান নাগরিক অধিকার এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী পদক্ষেপের রূপরেখাও তুলে ধরা হবে এই নির্বাচনী ইশতেহারে।
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, বর্তমানে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানি চলছে এবং আগামী ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শুরু হবে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। জামায়াত জোটের প্রধান শরিক দলগুলো—এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলগুলোও তাদের নিজস্ব জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে। গতকাল এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাথে জামায়াত আমিরের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কৌশল ও জোটের সংহতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জোটের শরিক ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম জানিয়েছেন, আসন সমঝোতার আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং তা অত্যন্ত ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। সমঝোতা ঘোষণা হওয়ার পরপরই সারা দেশে একযোগে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ এবং একই সাথে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার প্রচারণা শুরু করবে ১১ দল। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট আসন সংখ্যা কালকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বলা সম্ভব নয়। তবে তারা আশাবাদী যে, একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থেকেই তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
রিপোর্টারের নাম 

























