রাজস্ব আদায়ে মন্দা এবং বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে ভাটা পড়ায় অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে আবারও ব্যাংক ঋণের দিকে প্রবলভাবে ঝুঁকছে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস চার দিনেই (৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ৫৯ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটি বর্তমান অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মোট ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ৫৭.৪৫ শতাংশ। সরকারের এই ক্রমবর্ধমান ঋণের ক্ষুধা দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সরকারের ব্যাংক ঋণ নেওয়ার হার এবার প্রায় ৬১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থবছরের এই সময়ে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। মূলত উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বৃদ্ধি, ভর্তুকি সমন্বয়, নির্বাচনি খরচ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বিপুল চাপ সামলাতেই সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এই বিশাল অংকের অর্থ ধার করছে।
অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ঋণের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও এবং ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধের ইতিবাচক ধারা থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে এসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, যা এই সময়ে ২৪ হাজার ৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ ৫৯৩ কোটি টাকা নেতিবাচক থাকলেও বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়া এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সরকারের সামনে ব্যাংক ঋণ ছাড়া বিকল্প পথ সীমিত হয়ে পড়েছে। এছাড়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সরকারের বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির দায় মেটানোও এই ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারের এই ক্রমবর্ধমান ঋণ চাহিদা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























