ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘মা ইয়েস বললে ওপেন, নো বললে ব্লক’: ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের ফোনালাপ

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা একটি ফোনালাপের রেকর্ড অনুযায়ী, জয় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলককে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ সংকেত দিলেই কেবল ইন্টারনেট চালু করা হবে, অন্যথায় তা বন্ধ থাকবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগ গঠনের শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অডিও-ভিডিও প্রমাণাদি পেশ করে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানিতে জানান, এই ফোনালাপের রেকর্ডগুলো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (NTMC) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে এবং বিশ্ববাসীর কাছ থেকে হত্যাযজ্ঞের তথ্য গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেটের গতি কমানো ও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ফোনালাপের এক পর্যায়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে বলতে শোনা যায়, “তুমি রেডি থাকো। তোমার সম্ভাব্য সবকিছু সক্ষমতা নিয়ে। যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন। যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।” এই নির্দেশনার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আটটি নির্দিষ্ট অ্যাপ বন্ধ করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, তৎকালীন সরকার নিজেদের স্বার্থে এনটিএমসির মাধ্যমে এসব আলাপ রেকর্ড করিয়েছিল, যা এখন তাদের বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আন্দোলনকারীরা যেন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়—সেই উদ্দেশ্যেই এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ চালানো হয়েছিল বলে প্রসিকিউশন দাবি করে। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি চিঠি, নথি ও ডিজিটাল উপাত্তও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের বক্তব্য এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি গ্রহণ করেছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন যে, জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আইনজীবীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুমকির মুখে কিউবার পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় চীনের

‘মা ইয়েস বললে ওপেন, নো বললে ব্লক’: ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের ফোনালাপ

আপডেট সময় : ০২:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা একটি ফোনালাপের রেকর্ড অনুযায়ী, জয় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলককে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ সংকেত দিলেই কেবল ইন্টারনেট চালু করা হবে, অন্যথায় তা বন্ধ থাকবে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগ গঠনের শুনানি চলাকালে প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং অডিও-ভিডিও প্রমাণাদি পেশ করে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানিতে জানান, এই ফোনালাপের রেকর্ডগুলো ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (NTMC) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে এবং বিশ্ববাসীর কাছ থেকে হত্যাযজ্ঞের তথ্য গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেটের গতি কমানো ও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ফোনালাপের এক পর্যায়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে বলতে শোনা যায়, “তুমি রেডি থাকো। তোমার সম্ভাব্য সবকিছু সক্ষমতা নিয়ে। যখন মা বলবেন সিগন্যাল ইয়েস, তখন ওপেন। যখন বলবেন নো, তখন ব্লক।” এই নির্দেশনার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আটটি নির্দিষ্ট অ্যাপ বন্ধ করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, তৎকালীন সরকার নিজেদের স্বার্থে এনটিএমসির মাধ্যমে এসব আলাপ রেকর্ড করিয়েছিল, যা এখন তাদের বিরুদ্ধেই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আন্দোলনকারীরা যেন একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায়—সেই উদ্দেশ্যেই এই ডিজিটাল সেন্সরশিপ চালানো হয়েছিল বলে প্রসিকিউশন দাবি করে। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি চিঠি, নথি ও ডিজিটাল উপাত্তও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল প্রসিকিউশনের বক্তব্য এবং উপস্থাপিত প্রমাণাদি গ্রহণ করেছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের অব্যাহতি (ডিসচার্জ) আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন যে, জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে কি না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আইনজীবীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।