শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ৪৫টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগস্কোয়াড এবং অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল টিম মুলাই ব্যাপারীকান্দি ও চেরাগআলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বাড়িঘর ও আশপাশের স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের একটি বসতঘরে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই সোহান ব্যাপারী (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশের একটি ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীন হোসেন (২২) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর কয়েকজন সমর্থক ওই বসতঘরে ককটেল তৈরি করছিলেন। বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী, তার তিন ভাইসহ ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট এবং সিআইডির ক্রাইমসিন বিভাগ বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করে। সেখান থেকে ককটেল তৈরির এমন পরিমাণ উপাদান উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে অন্তত ১০০টি ককটেল তৈরি করা সম্ভব বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, বিলাসপুরের যেসব এলাকা সংঘাতপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেসব জায়গায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ককটেলসদৃশ বস্তু, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















