ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ: তদন্ত ও পরীক্ষা বাতিলের দাবি এনসিপির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

এনসিপি নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুণগত পরিবর্তনের পরিবর্তে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো— শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে ওঠা সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা; তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা; প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ করা এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।

দলটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার আদায়ে এনসিপি রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ: তদন্ত ও পরীক্ষা বাতিলের দাবি এনসিপির

আপডেট সময় : ০২:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষায় একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।

এনসিপি নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুণগত পরিবর্তনের পরিবর্তে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো— শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে ওঠা সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা; তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা; প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ করা এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কঠোর শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।

দলটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে, তবে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার আদায়ে এনসিপি রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।