ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আইনজীবী আলিফ হত্যা: ২৩তম আসামি গ্রেপ্তার, বিচারের পথে আরেক ধাপ

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গণেশ প্রকাশ গনেজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলায় মোট ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো, যদিও এখনও ১৬ জন পলাতক রয়েছেন।

রোববার দুপুরে র‍্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণেশ প্রকাশ গনেজের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত গনেশ (১৯) নগরীর কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির শেরিপ দাশের ছেলে। র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর লালদীঘির পাড়ে জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গণেশ এই হত্যা মামলায় পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর বান্দরবান থেকে এই মামলার আরেক আসামি সুকান্তকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বর্তমানে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কের বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্তদের অধিকাংশই রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে চিন্ময় দাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ সংকেতে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি: সাবেক এফবিআই পরিচালক জেমস কোমির আত্মসমর্পণ

আইনজীবী আলিফ হত্যা: ২৩তম আসামি গ্রেপ্তার, বিচারের পথে আরেক ধাপ

আপডেট সময় : ০৫:২১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গণেশ প্রকাশ গনেজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলায় মোট ২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো, যদিও এখনও ১৬ জন পলাতক রয়েছেন।

রোববার দুপুরে র‍্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণেশ প্রকাশ গনেজের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত গনেশ (১৯) নগরীর কোতোয়ালি থানার সেবক কলোনির শেরিপ দাশের ছেলে। র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর লালদীঘির পাড়ে জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে গণেশ এই হত্যা মামলায় পলাতক ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর বান্দরবান থেকে এই মামলার আরেক আসামি সুকান্তকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বর্তমানে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই সময় বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কের বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্তদের অধিকাংশই রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

তদন্ত শেষে গত ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়, যেখানে চিন্ময় দাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়।