টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত রোববার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ঝড়ের তাণ্ডবে নিচু জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর শ্যামলার চর, কাঁঠালিয়াবাড়ী, বালাসুতী, বানিয়াজানের বলদী আটা, ধোপাখালী, পাইস্কার প্যারিআটা, টাউরিয়া, মুশুদ্দি, বলিভদ্র ও যদুনাথপুরসহ পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়েছে। এতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে শ্যামলার চর এলাকা তিন দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ঘরসহ ভুট্টাগাছও উপড়ে পড়েছে। বোরো ধানক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় অনেক ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, টানা ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ধান ঘরে তোলা কঠিন হবে এবং পানিতে তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বীরতারার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বোরো চাষে এবার খরচ বেশি হয়েছে। টানা খরার কারণে বেশি সেচ ও বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। বিলের মধ্যে ২ বিঘা জমির বোরো ধান বৃষ্টির পানিতে শীষ পর্যন্ত ডুবে যাচ্ছে। সময়মতো ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সরকারি সহায়তারও দাবি করেছেন তিনি।
বাজিতপুর এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সেজনু জানান, ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগের তারের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে এলাকাটি। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এবার উপজেলায় ১০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে কিছু সমস্যা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে এলে চাষিরা ধান কাটা ও মাড়াই আবার শুরু করতে পারবেন।’
ধনবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মিথুন বিশ্বাস জানান, ঝড়ে ধনবাড়ী উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় গাছপালা পড়ে খুঁটির তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























