উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে সচেতন হওয়া ভীষণ জরুরি। মজার বিষয় হলো, কিছু প্রাকৃতিক পানীয় নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আসুন, এমন চারটি প্রাকৃতিক পানীয় সম্পর্কে জেনে নিই, যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে:
১. লেবুর পানি সকালে হালকা গরম পানিতে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও কমিয়ে দেয়।
২. বিটরুটের রস গবেষণায় দেখা গেছে, বিটের রসে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট রক্তনালিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস বিটের রস খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে এতে বাড়তি লবণ না মেশানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. ডাবের জল ডাবের জল শরীরের সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত সোডিয়াম না থাকায় এটি রক্তচাপ বাড়ায় না। শরীরচর্চার পরে এক গ্লাস ডাবের জল পান করলে তা শুধু শরীরকে সতেজ করে না, বরং হৃদযন্ত্রের সুস্থতাও নিশ্চিত করে।
৪. গ্রিন টি দুধ ও চিনি মেশানো চায়ের বদলে গ্রিন টি পান করাই বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে ‘ক্যাটেচিন’ নামক একটি উপাদান আছে, যা রক্তনালির গঠন মজবুত রাখতে সাহায্য করে এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি পান করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খুবই সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সব সময় বলেন, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কখনোই ওষুধ বন্ধ করবেন না। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেক কমানো সম্ভব। তাই আপনার প্রতিদিনের পানীয়তেও হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর উপায়।
রিপোর্টারের নাম 

























