ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র মামলা: তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে মার্কিন নাগরিক এনায়েত চৌধুরী

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মন্ত্রীপাড়া থেকে গ্রেফতার হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। আদালত এই মামলার তৃতীয় দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইসতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন। এর আগে, একই মামলায় তাকে দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

এদিন কারাগার থেকে এনায়েত করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ, সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম রিমান্ড বাতিল এবং জামিনের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে সওয়াল করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে এনায়েত করিম চৌধুরী মিন্টো রোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। সেখানে ঘোরাঘুরি করার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি পুলিশকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এই কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এই মামলাতেই দুই দফায় ডিবি পুলিশ তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে এনায়েত চৌধুরীর গ্রেফতারের পর তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ, জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদ এবং যুব সংহতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রিফাতুল ইসলাম পাভেলকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র মামলা: তৃতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে মার্কিন নাগরিক এনায়েত চৌধুরী

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মন্ত্রীপাড়া থেকে গ্রেফতার হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। আদালত এই মামলার তৃতীয় দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বুধবার (২২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইসতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এই আদেশ দেন। এর আগে, একই মামলায় তাকে দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

এদিন কারাগার থেকে এনায়েত করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ, সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম রিমান্ড বাতিল এবং জামিনের আবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে সওয়াল করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী ১৯৮৮ সালে আমেরিকায় যান এবং ২০০৪ সালে আমেরিকান পাসপোর্ট পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার জন্য অন্য একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশে আসেন।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে এনায়েত করিম চৌধুরী মিন্টো রোড এলাকায় একটি প্রাডো গাড়িতে করে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাকে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তার গাড়ি থামায়। সেখানে ঘোরাঘুরি করার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি পুলিশকে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এই কারণে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার কাছ থেকে দুটি আইফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এই মামলাতেই দুই দফায় ডিবি পুলিশ তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে এনায়েত চৌধুরীর গ্রেফতারের পর তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ, জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মো. মামুনূর রশীদ এবং যুব সংহতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রিফাতুল ইসলাম পাভেলকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।