ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে নতুন দিগন্ত: ইউসিবির চ্যালেঞ্জ জয় ও সাফল্যের বর্ণাঢ্য উৎসব

রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের পুলসাইড গত ৯ জানুয়ারি পরিণত হয়েছিল এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, তারই উদযাপন ছিল ‘ইউসিবি নাইট – দ্য বিগিনিং অব এ নিউ এরা’ শীর্ষক এই বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি নানা পেশার শত শত মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল এই বর্ণাঢ্য সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানে আগত এক তরুণ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সস্ত্রীক তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যে ব্যাংকে এত বছর ধরে লেনদেন করছি, তাদের এমন সাফল্যের উৎসবে না এসে উপায় ছিল না।” একই সুর শোনা গেল উত্তরা থেকে আসা এক চিকিৎসক দম্পতির কণ্ঠেও, যারা এই আয়োজনকে বিনোদনের পাশাপাশি ইউসিবির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

যখন দেশের ব্যাংকিং খাত চাপ, অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইউসিবি ২০২৩-২০২৫ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ব্যাংকটির ইতিহাসে ২০২৫ সাল এক রেকর্ড সাফল্যের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অসাধারণ অর্জন উদযাপন এবং দীর্ঘদিনের গ্রাহক, অংশীদার ও শিল্প-সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ইউসিবির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপর একে একে মঞ্চে আসে দৃঢ়তা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে এক গীতি আলেখ্য। জনপ্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও কিংবদন্তী রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন শিল্পীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইউসিবি ভিসা ইনফিনিট কার্ড এবং ইউসিবি মাস্টার কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, যা গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবার দ্বার উন্মোচন করেছে।

আলোর ঝলকানি আর সঙ্গীতের মূর্ছনার মাঝেই তুলে ধরা হয় ইউসিবির বাস্তব সাফল্যের চিত্র। ২০২৪ সালে ব্যাংকটিতে যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪,০৮২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে, যা এক অসাধারণ প্রবৃদ্ধি। গ্রাহক আস্থাও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো; ২০২৪ সালে ৪.১১ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও, ২০২৫ সালে ৬.৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ইউসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও ৯১.৩ শতাংশ থেকে কমে ৮৩ শতাংশে নেমে আসা ব্যাংকটির তারল্য ও স্থিতিশীলতারই প্রমাণ বহন করে।

অনুষ্ঠানে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, “চার দশক ধরে আমরা যা তৈরি করেছি, ইনশাল্লাহ, আপনাদের অব্যাহত সমর্থন থাকলে আগামী চার বছরে আমরা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারব।” ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট – প্রথমে স্থিতিশীলতা, এরপর আস্থা, আর তারপর টেকসই প্রবৃদ্ধি।” তাদের এই প্রত্যয় ইউসিবির ভবিষ্যৎ যাত্রায় গ্রাহকদের জন্য আরও উজ্জ্বল দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের উত্তেজনার জেরে আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করল সোমালিয়া

ব্যাংকিং খাতে নতুন দিগন্ত: ইউসিবির চ্যালেঞ্জ জয় ও সাফল্যের বর্ণাঢ্য উৎসব

আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের পুলসাইড গত ৯ জানুয়ারি পরিণত হয়েছিল এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) যে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, তারই উদযাপন ছিল ‘ইউসিবি নাইট – দ্য বিগিনিং অব এ নিউ এরা’ শীর্ষক এই বিশেষ আয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং সরকারি-বেসরকারি নানা পেশার শত শত মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল এই বর্ণাঢ্য সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানে আগত এক তরুণ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সস্ত্রীক তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যে ব্যাংকে এত বছর ধরে লেনদেন করছি, তাদের এমন সাফল্যের উৎসবে না এসে উপায় ছিল না।” একই সুর শোনা গেল উত্তরা থেকে আসা এক চিকিৎসক দম্পতির কণ্ঠেও, যারা এই আয়োজনকে বিনোদনের পাশাপাশি ইউসিবির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

যখন দেশের ব্যাংকিং খাত চাপ, অনিশ্চয়তা আর আস্থার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইউসিবি ২০২৩-২০২৫ সালের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ব্যাংকটির ইতিহাসে ২০২৫ সাল এক রেকর্ড সাফল্যের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই অসাধারণ অর্জন উদযাপন এবং দীর্ঘদিনের গ্রাহক, অংশীদার ও শিল্প-সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই ইউসিবির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপর একে একে মঞ্চে আসে দৃঢ়তা ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নিয়ে এক গীতি আলেখ্য। জনপ্রিয় শিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও কিংবদন্তী রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন শিল্পীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইউসিবি ভিসা ইনফিনিট কার্ড এবং ইউসিবি মাস্টার কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, যা গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবার দ্বার উন্মোচন করেছে।

আলোর ঝলকানি আর সঙ্গীতের মূর্ছনার মাঝেই তুলে ধরা হয় ইউসিবির বাস্তব সাফল্যের চিত্র। ২০২৪ সালে ব্যাংকটিতে যেখানে আমানত প্রবৃদ্ধি ছিল ৪,০৮২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে, যা এক অসাধারণ প্রবৃদ্ধি। গ্রাহক আস্থাও বেড়েছে চোখে পড়ার মতো; ২০২৪ সালে ৪.১১ লাখ নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও, ২০২৫ সালে ৬.৭৮ লাখ নতুন গ্রাহক ইউসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এডভান্স টু ডিপোজিট রেশিও ৯১.৩ শতাংশ থেকে কমে ৮৩ শতাংশে নেমে আসা ব্যাংকটির তারল্য ও স্থিতিশীলতারই প্রমাণ বহন করে।

অনুষ্ঠানে ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, “চার দশক ধরে আমরা যা তৈরি করেছি, ইনশাল্লাহ, আপনাদের অব্যাহত সমর্থন থাকলে আগামী চার বছরে আমরা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারব।” ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট – প্রথমে স্থিতিশীলতা, এরপর আস্থা, আর তারপর টেকসই প্রবৃদ্ধি।” তাদের এই প্রত্যয় ইউসিবির ভবিষ্যৎ যাত্রায় গ্রাহকদের জন্য আরও উজ্জ্বল দিনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।