মাদারীপুরের রাজৈরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষকালে একটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রাজৈর পৌরসভার বেপাড়ীপাড়া মোড় ও পশ্চিম রাজৈর এলাকায় দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলে। জানা যায়, পশ্চিম রাজৈর এলাকার শহীদ শেখের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে সাউন্ড বক্সে গান বাজাচ্ছিলেন বর ও কনে পক্ষের লোকজন।
স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ শেষে গান বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন রাজৈর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান (৪৫)। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরেই শহীদ শেখের ভাই অলি শেখের (৪০) সঙ্গে জাহাঙ্গীরের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়।
এই বাগবিতণ্ডার জেরে সন্ধ্যায় রাজৈর বাজারের বেপাড়ীপাড়া মোড়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর খানের জ্বালানি কাঠের দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে অলি শেখের অনুসারীরা।
খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরপর পশ্চিম রাজৈর গ্রামে ফিরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য অলি শেখের পক্ষের লোকজন জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গেলে সেখানে রাজৈর পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীর (৫০) মারধরের শিকার হন। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও চার জন আহত হয়েছেন। রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, দু’পক্ষের মারামারি দুই গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হলেও, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
পশ্চিম রাজৈর এলাকার শহীদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়েতে জাহাঙ্গীর তার লোকজন নিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। তিনি ছাত্রদলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চান। মসজিদে নামাজ শেষে আমার ভাইকে জাহাঙ্গীর গানবাজনা বন্ধ করতে বলেন এবং হুমকিও দেন। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করতে লোক পাঠান জাহাঙ্গীর।’
অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অলিকে খারাপ কিছুই বলিনি। সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে গান বাজালে শব্দদূষণ হয়, যা মানুষের ক্ষতি করে। এই কথা বলায় অলি ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদের ভেতরেই হট্টগোল শুরু করেন। পরে অন্যরা তাকে থামিয়ে দেন। অলির ভাতিজির বিয়ে শেষ হলে তারা লোকজন নিয়ে আমার জ্বালানি কাঠের দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। বাধা দিতে গেলে আমার কয়েকজন লোককেও আহত করা হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রিপোর্টারের নাম 
























