ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতেই, গ্রেফতারের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতেই রয়েছেন। আদালত গত ৮ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, পুলিশ প্রশাসনের গ্রেফতার কার্যকর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের মতে, এই কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের এখতিয়ার পুলিশের থাকলেও, শেষ সিদ্ধান্ত সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাখার জন্য ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে পরিচালিত হবে।

তিনি জানান, যারা হেফাজতে আছেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হবে নাকি সেনা আইনে বিচার হবে—সে বিষয়ে তিনি এখনো কিছুই জানেন না। কোর্টের আদেশ এখনো তাঁরা পাননি এবং সরকার বা সেনাবাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে গত রোববার সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর আদালতে হাজির করা হবে এবং আদালত নির্দেশ দিলে তাঁদের সেনানিবাসের এই সাময়িক কারাগারে রাখা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খলিল আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি এ মুহূর্তে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না এবং সচিব মহোদয় তথ্য দিতে পারেন। কারা অধিদপ্তরের এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ সাময়িক কারাগার ঘোষণার বিষয়টি অবগত থাকলেও সেখানে কারা থাকবে বা পরিচালনার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন।

এদিকে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ সেনা আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, তাঁরা অপরাধীদের বিচারের পক্ষে, তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে। তিনি আর্জেন্টিনা, চিলি, মেক্সিকো ও তুরস্কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশেও প্রয়োজনে সেনা আইন সংশোধন করে ডিক্টেটরদের বিচারের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রেখে ‘ম্যানুয়াল অব ব্যাঞ্জিন মিলিটারি আইন (এমবিএমএল)’ সংশোধন করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন।

উল্লেখ্য, সেনানিবাসের ‘এমইএস বিল্ডিং নম্বর-৫৪’-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসাবে ঘোষণা করে গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হেফাজতে নেয় এবং গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আনতে হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতেই, গ্রেফতারের বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষা

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে সেনা হেফাজতেই রয়েছেন। আদালত গত ৮ অক্টোবর তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, পুলিশ প্রশাসনের গ্রেফতার কার্যকর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে।

প্রসিকিউশন বিভাগের মতে, এই কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের এখতিয়ার পুলিশের থাকলেও, শেষ সিদ্ধান্ত সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাখার জন্য ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে পরিচালিত হবে।

তিনি জানান, যারা হেফাজতে আছেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হবে নাকি সেনা আইনে বিচার হবে—সে বিষয়ে তিনি এখনো কিছুই জানেন না। কোর্টের আদেশ এখনো তাঁরা পাননি এবং সরকার বা সেনাবাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে গত রোববার সাময়িকভাবে কারাগার ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর আদালতে হাজির করা হবে এবং আদালত নির্দেশ দিলে তাঁদের সেনানিবাসের এই সাময়িক কারাগারে রাখা হবে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব খলিল আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, বিষয়টি খুবই সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি এ মুহূর্তে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না এবং সচিব মহোদয় তথ্য দিতে পারেন। কারা অধিদপ্তরের এআইজি জান্নাতুল ফরহাদ সাময়িক কারাগার ঘোষণার বিষয়টি অবগত থাকলেও সেখানে কারা থাকবে বা পরিচালনার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন।

এদিকে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য ‘এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন’ সেনা আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ বলেন, তাঁরা অপরাধীদের বিচারের পক্ষে, তবে সেই বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে। তিনি আর্জেন্টিনা, চিলি, মেক্সিকো ও তুরস্কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশেও প্রয়োজনে সেনা আইন সংশোধন করে ডিক্টেটরদের বিচারের পথ অনুসরণ করা যেতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রেখে ‘ম্যানুয়াল অব ব্যাঞ্জিন মিলিটারি আইন (এমবিএমএল)’ সংশোধন করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন।

উল্লেখ্য, সেনানিবাসের ‘এমইএস বিল্ডিং নম্বর-৫৪’-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসাবে ঘোষণা করে গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হেফাজতে নেয় এবং গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আসামিকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আনতে হবে।