ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হাদি হত্যা পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরে: নানক-ইলিয়াস মোল্লাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল ছক চূড়ান্ত হয়েছিল সিঙ্গাপুরে বসে। গত বছরের ২১ জুলাই শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ সিঙ্গাপুরে যান এবং সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর সাথে ৫ দিনব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা, অর্থের জোগান এবং পালানোর পথ চূড়ান্ত করা হয়।

ডিবির সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কঠোর সমালোচক হওয়ায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর ২৬ জুলাই শুটার ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার এফডি খোলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের ‘পারিশ্রমিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ডিবি আরও জানায়, মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এই অপারেশনের মাঠপর্যায়ের নির্দেশদাতা ছিলেন। হাদি নতুন ধারার রাজনীতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ায় তার ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, সহযোগী আলমগীর এবং নির্দেশদাতা বাপ্পীসহ ৫ জন বর্তমানে পলাতক। ডিবি নিশ্চিত করেছে যে ফয়সাল দুবাই থাকার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সে ভারতে আত্মগোপন করে আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংরক্ষণ, সীমান্ত পারাপারে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি। ডিবি জানিয়েছে, তদন্ত এখনো অব্যাহত আছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন: পাম্পে পাম্পে হাহাকার ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা

হাদি হত্যা পরিকল্পনা সিঙ্গাপুরে: নানক-ইলিয়াস মোল্লাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট সময় : ০১:২১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল ছক চূড়ান্ত হয়েছিল সিঙ্গাপুরে বসে। গত বছরের ২১ জুলাই শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ সিঙ্গাপুরে যান এবং সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লা এবং সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর সাথে ৫ দিনব্যাপী ধারাবাহিক বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা, অর্থের জোগান এবং পালানোর পথ চূড়ান্ত করা হয়।

ডিবির সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কঠোর সমালোচক হওয়ায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার পর ২৬ জুলাই শুটার ফয়সালের সন্তানের নামে একটি ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার এফডি খোলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের ‘পারিশ্রমিক’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ডিবি আরও জানায়, মিরপুরের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম বাপ্পী এই অপারেশনের মাঠপর্যায়ের নির্দেশদাতা ছিলেন। হাদি নতুন ধারার রাজনীতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ায় তার ওপর এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, সহযোগী আলমগীর এবং নির্দেশদাতা বাপ্পীসহ ৫ জন বর্তমানে পলাতক। ডিবি নিশ্চিত করেছে যে ফয়সাল দুবাই থাকার দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সে ভারতে আত্মগোপন করে আছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংরক্ষণ, সীমান্ত পারাপারে সহায়তা এবং তথ্য গোপনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাদি। ডিবি জানিয়েছে, তদন্ত এখনো অব্যাহত আছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।