ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় তীব্র দুর্ভিক্ষ: ইসরাইলি বর্বরতায় বাড়ছে মানবিক সংকট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের ঝংকার নয়, এটি মানবতা ও জীবনের এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, যা যুদ্ধের এক নির্মম ও মর্মান্তিক পরিণতি। এই ধ্বংসযজ্ঞে কেবল জীবনই যাচ্ছে না, বরং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, গৃহহীন হচ্ছেন এবং তাদের ঠিকানা হারাচ্ছেন। অর্থের বিনিময়ে এই মানবতাবিরোধী ও জনবিনাশী কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে সিরিয়া, ইউক্রেন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার মতো দেশগুলো উল্লেখযোগ্য। যেখানেই যুদ্ধ, সেখানেই এক অভূতপূর্ব নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, যা কেবল অর্থব্যয়ে আয়োজিত বিনাশী আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ সাত কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, যা ২০১৭ সালে আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে মাত্র ১৮টি দেশেই প্রায় আট কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন, যা দুর্ভিক্ষেরই ইঙ্গিত বহন করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। জাতিসংঘের একটি রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই ৪৮ হাজার ৩৮৪ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৫০২ জন মানবাধিকার কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গাজাতেই ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে এক একটি জীবন, এক একটি গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত কাহিনি। যুদ্ধাহতদের মধ্যে ২৮ শতাংশ মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বলে জাতিসংঘের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুদ্ধকালে নারী ও শিশুর উপর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রাচীনকাল থেকেই এটি স্বীকৃত যে, যুদ্ধক্ষেত্রে সত্য, নারী এবং শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৫ সালের একটি হিসাবে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মোট বেসামরিক নিহতের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী, যা আগের দুই বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। শিশুদের মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩৩ হাজার ৪৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী মানবিক প্রভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের দাম নয়, সংকট কাটাতে সেনা নামানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

গাজায় তীব্র দুর্ভিক্ষ: ইসরাইলি বর্বরতায় বাড়ছে মানবিক সংকট

আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের ঝংকার নয়, এটি মানবতা ও জীবনের এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় তীব্র দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, যা যুদ্ধের এক নির্মম ও মর্মান্তিক পরিণতি। এই ধ্বংসযজ্ঞে কেবল জীবনই যাচ্ছে না, বরং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন, গৃহহীন হচ্ছেন এবং তাদের ঠিকানা হারাচ্ছেন। অর্থের বিনিময়ে এই মানবতাবিরোধী ও জনবিনাশী কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে সিরিয়া, ইউক্রেন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার মতো দেশগুলো উল্লেখযোগ্য। যেখানেই যুদ্ধ, সেখানেই এক অভূতপূর্ব নৃশংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে, যা কেবল অর্থব্যয়ে আয়োজিত বিনাশী আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ সাত কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন, যা ২০১৭ সালে আরও বেড়ে যায়। এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে মাত্র ১৮টি দেশেই প্রায় আট কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন, যা দুর্ভিক্ষেরই ইঙ্গিত বহন করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। জাতিসংঘের একটি রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালেই ৪৮ হাজার ৩৮৪ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৫০২ জন মানবাধিকার কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গাজাতেই ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রতিটি সংখ্যার পেছনেই রয়েছে এক একটি জীবন, এক একটি গল্প এবং অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত কাহিনি। যুদ্ধাহতদের মধ্যে ২৮ শতাংশ মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন বলে জাতিসংঘের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যুদ্ধকালে নারী ও শিশুর উপর প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রাচীনকাল থেকেই এটি স্বীকৃত যে, যুদ্ধক্ষেত্রে সত্য, নারী এবং শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৫ সালের একটি হিসাবে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে নিহত নারী ও শিশুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মোট বেসামরিক নিহতের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী, যা আগের দুই বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। শিশুদের মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩৩ হাজার ৪৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের তুলনায় এই সংখ্যা ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী মানবিক প্রভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।