পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোররাতের দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত নবজাতকের বাবা সাব্বির সিকদার এবং মা ইতি বেগম বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইতি বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট উপস্থিত ছিলেন না। রোগীর স্বজনরা পরে তাকে ওয়ার্ডে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত নার্সদের বিষয়টি জানানো হলে তাকে নবজাতক ডেলিভারি কক্ষে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সারা রাত ইতি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও নার্সরা দায়িত্বরত চিকিৎসককে বিষয়টি অবগত করেননি। ফলে সকালে ডেলিভারি করানোর পর নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নবজাতকের বাবা সাব্বির সিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতে সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই আমাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। নার্সদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা রাতে ডাক্তারকে ফোন করে ডাকেননি। হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্সরা আমাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী, যিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। তবে ওই সময়ে নার্সরা চিকিৎসককে বিষয়টি জানাননি।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স শিরিন বেগম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী রোগী এলে প্রথমে জরুরি বিভাগে ভর্তি করতে হয়। এরপর চিকিৎসককে জানালে তিনি এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রোগীর প্রসব বেদনা বেশি ছিল, সেটা দেখেছি। তবে চিকিৎসককে জানানোর বিষয়টি জরুরি বিভাগের দায়িত্ব।”
চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী জানান, “রাতে কোনো রোগী আসার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। সকালে আমি রোগীর বিষয়ে জানতে পেরে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তবে সকালেও রোগীর ভর্তির কোনো তথ্য রেজিস্টার খাতায় ছিল না। পরে আমি রোগীকে ভর্তি করে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার উদ্যোগ নেই। রিপোর্টে দেখা যায়, নবজাতক আর জীবিত নেই।”
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, “এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে রোগীর পরিবার আমাকে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “রাতে চিকিৎসকরা কল অন ডিউটিতে থাকেন। জরুরি বিভাগে রোগী এলে মুঠোফোনে চিকিৎসককে জানানো হয়। তখন তিনি এসে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।”
রিপোর্টারের নাম 

























