লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াত এখন পরিশুদ্ধ হয়েছে। তার মতে, জামায়াত যদি পরিশুদ্ধ না হতো, তাহলে বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সঙ্গে জোট বাঁধতেন না। তিনি জানান, সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা একত্রিত হয়েছেন।
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছে এবং সবাইকে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের মধ্যে তরুণ জামায়াত কর্মীদের বড় একটি অংশ ছিল। তার দাবি, তারাই দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। অন্যদিকে, তিনি নিজে প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। এখন সবাই একজোট হয়েছেন।
অলি আহমদ বলেন, তারা জামায়াতে যোগদান করেননি, তেমনি জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। তাদের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নয়, বরং ‘ছাতা’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এবং ‘জুলাইয়ের শক্তি’ এখন একত্রিত হয়েছে এবং আসন সমঝোতা করেছে। যেখানে এলডিপি প্রার্থী দেবে, সেখানে জামায়াত প্রার্থী দেবে না এবং একইভাবে জামায়াত যেখানে প্রার্থী দেবে, সেখানে এলডিপি প্রার্থী দেবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা দেশের জনগণই ঠিক করবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো বিরোধ নেই, তবে দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হবে আর বাংলাদেশে তা কার্যকর হবে – এমন বেঈমানি ও মুনাফেকির কাজে তারা যাবেন না।
এলডিপির এই নেতা ভারতের দালালদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা ভারতের দালালি করছে, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া উচিত। কারণ, তারা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করতে চায়। অর্থ, নারী ও অন্যান্য লোভে আকৃষ্ট হয়ে তারা ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অলি আহমদ জোর দিয়ে বলেন, তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর গোলাম হিসেবে কাজ করবেন না। বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে কীভাবে দেশ চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যুক্ত হয়। এই সংযোজনের মধ্য দিয়ে জোটটি এখন ১০ দলীয় জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















