দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘এয়ার ট্রাফিক কমিউনিকেশন সিস্টেম’ স্যাটেলাইট সংযোগ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক অপারেশন কার্যক্রম বিকল্প হিসেবে ফাইবার অপটিক্যাল কেবলের ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনোমতে সচল রাখা হয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, ফাইবার অপটিক্যাল কেবল মূলত ব্যাকআপ হিসেবে থাকার কথা থাকলেও এখন সেটিই প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো কারণে এই কেবলে ত্রুটি দেখা দিলে পুরো দেশের আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে এবং বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ও বিটিআরসির তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১-এর নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে (৪৫৪০–৪৫৪৬ মেগাহার্টজ) রহস্যময় এবং অপ্রত্যাশিত ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। গত অক্টোবর মাসে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে স্পেকট্রাম মনিটরিং দল দুটি আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি পিক শনাক্ত করলেও সেগুলো অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী হওয়ায় উৎসের সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর নূর ই আলম জানিয়েছেন, এটি মূলত স্যাটেলাইট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি সমস্যা। তবে বর্তমানে অপারেশনাল কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা এর স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা দেখছেন।
এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি জরুরি সুপারিশ করেছে। বিটিআরসির মতে, বর্তমান ‘ভিস্যাট’ (VSAT) সিস্টেমের তরঙ্গ ব্যান্ড পরিবর্তন করে ভিন্ন একটি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বরাদ্দ দিলেই কেবল এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এ সংক্রান্ত একটি সরকারি স্মারক গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিএসসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্বিঘ্ন বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যান্ড মাইগ্রেশন সম্পন্ন করা জরুরি, অন্যথায় কারিগরি বিপর্যয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 

























