মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় আগামী মে ও জুন মাসে বিশ্বব্যাপী বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। আইইএ সতর্ক করেছে যে, ইউরোপ যদি দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে তেলের জোগান নিশ্চিত করতে না পারে, তবে জুন মাস নাগাদ তাদের জ্বালানি মজুত সংকটাপন্ন পর্যায়ে নেমে আসবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েলের প্রায় ৩০ শতাংশ আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার সিংহভাগই আসে এই প্রণালি দিয়ে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই বিঘ্ন মে মাস থেকেই বড় আকারের ফ্লাইট বাতিলের কারণ হতে পারে।
যদিও ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে যে এখনই পুরোপুরি জ্বালানি ফুরিয়ে যায়নি, তবে তারা স্বীকার করেছে যে সরবরাহ সংকট এখন অনিবার্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্বজুড়ে বিমান যোগাযোগে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টারের নাম 
























