বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) এই ফোনালাপে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ফোনালাপে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাশাপাশি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। উভয় নেতা পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও ইসহাক দারের কূটনৈতিক ফোনালাপ সম্পন্ন হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীল রক্ষায় পাকিস্তানের সক্রিয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা ‘স্বাধীন দক্ষিণ আরব’ রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) এই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তুঙ্গে পৌঁছেছে। সৌদি আরব এই পদক্ষেপকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনার জন্য রিয়াদে আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তান এই সংকট নিরসনে ইয়েমেনের ঐক্য ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে এই ফোনালাপ দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক দূরত্ব কমিয়ে সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























