ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট; শুরু হচ্ছে আপিল শুনানিও

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, একই দিনে দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার ভোট গ্রহণ সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনী বিধিমালার সাথে সাংঘর্ষিক।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেও প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতি ও আবেদনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের ক্ষেত্রে এক সেট মূল কাগজের পাশাপাশি ছয় সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।

সুষ্ঠুভাবে আপিল গ্রহণের সুবিধার্থে সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা বুথে নির্দিষ্ট আসনের প্রার্থীরা তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী শুনানি শুরু হবে। শুনানির সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারী প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপিও সংগ্রহ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই সাথে দুটি ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে বেশ চাপের সৃষ্টি করবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন আইনি লড়াই চলছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আপিল নিষ্পত্তির প্রস্তুতি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, রিট ও আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহিত সাগরের উত্তেজনার জেরে আমিরাতের সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করল সোমালিয়া

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট; শুরু হচ্ছে আপিল শুনানিও

আপডেট সময় : ০২:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, একই দিনে দুটি ভিন্ন প্রক্রিয়ার ভোট গ্রহণ সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনী বিধিমালার সাথে সাংঘর্ষিক।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলে তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেও প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতি ও আবেদনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিশনের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের ক্ষেত্রে এক সেট মূল কাগজের পাশাপাশি ছয় সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে।

সুষ্ঠুভাবে আপিল গ্রহণের সুবিধার্থে সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আলাদা আলাদা বুথে নির্দিষ্ট আসনের প্রার্থীরা তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্ধারিত ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী শুনানি শুরু হবে। শুনানির সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং আপিলকারী প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে হবে। আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে। এছাড়া নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবন থেকে রায়ের হার্ডকপিও সংগ্রহ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একই সাথে দুটি ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে বেশ চাপের সৃষ্টি করবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন আইনি লড়াই চলছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আপিল নিষ্পত্তির প্রস্তুতি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, রিট ও আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।