ঢাকা ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার সব কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি দাবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘দায়মুক্তি’ (ইন্ডেমনিটি) দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসানকে গ্রেফতারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে দুই দফা দাবি ঘোষণা করেছে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

দুই দফা দাবির বিস্তারিত:

১. মাহাদীর মুক্তি ও ওসির প্রত্যাহার: শনিবার রাতের মধ্যেই মাহাদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও দায়মুক্তি: ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার পরিচালিত সকল কর্মকাণ্ডের আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ জারি করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

মাহাদী হাসানের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা শ্লোগান দিয়ে অবিলম্বে মাহাদীর মুক্তি দাবি করেন। উল্লেখ্য, মাহাদীকে গ্রেফতারের পর মধ্যরাতেই আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এই ঘটনাকে ‘পুলিশি আমলাতন্ত্রের জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় ছাত্র-জনতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমান পুলিশি কাঠামো বা স্বার্থান্বেষী মহল হয়রানিমূলক মামলা বা গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিতেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিশেষ অধ্যাদেশ জারির দাবি তোলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বা মাহাদী হাসানের মুক্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার সব কর্মকাণ্ডের দায়মুক্তি দাবি

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘দায়মুক্তি’ (ইন্ডেমনিটি) দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি।

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসানকে গ্রেফতারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে দুই দফা দাবি ঘোষণা করেছে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

দুই দফা দাবির বিস্তারিত:

১. মাহাদীর মুক্তি ও ওসির প্রত্যাহার: শনিবার রাতের মধ্যেই মাহাদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও দায়মুক্তি: ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার পরিচালিত সকল কর্মকাণ্ডের আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ জারি করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

মাহাদী হাসানের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তারা শ্লোগান দিয়ে অবিলম্বে মাহাদীর মুক্তি দাবি করেন। উল্লেখ্য, মাহাদীকে গ্রেফতারের পর মধ্যরাতেই আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ এই ঘটনাকে ‘পুলিশি আমলাতন্ত্রের জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সময় ছাত্র-জনতার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমান পুলিশি কাঠামো বা স্বার্থান্বেষী মহল হয়রানিমূলক মামলা বা গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিতেই রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বিশেষ অধ্যাদেশ জারির দাবি তোলা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বা মাহাদী হাসানের মুক্তি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচির কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।