ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ আজ রোববার শেষ হয়েছে। দেশের ৩০০ আসনেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৮১ জন, রাজশাহীতে ১৯ জন এবং চট্টগ্রামে ১০ জন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তারা আগামীকাল ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এরপর ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের পর এখন শুরু হচ্ছে আইনি লড়াইয়ের দ্বিতীয় ধাপ—আপিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ এজলাস বসিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনাররা আপিল শুনানি গ্রহণ করবেন।
ঢাকার চিত্র: ৮১ জনের মনোনয়ন বাতিল ও মাহমুদুর রহমান মান্নার বৈধতা:
ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মোট ২৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬১ জন বৈধ ঘোষিত হলেও ৮১ জনের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ভোটার তালিকায় গরমিলের কারণে। তবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার জন্য খবরটি স্বস্তির। বগুড়ায় তার আবেদন বাতিল হলেও ঢাকা-১৮ আসনে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে করে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত হলো। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী আশরাফুল হকের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাতিলে হিড়িক:
চট্টগ্রামের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এছাড়া বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবং এস এম ফজলুল হকও বাদ পড়েছেন। চট্টগ্রামে মূলত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও আয়কর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণেই বেশি বাতিল হয়েছে। রাজশাহীর ছয়টি আসনে ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জনেরই মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নে ত্রুটির কারণে ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
বরিশালের অবস্থা ও অন্যান্য কারণ:
বরিশালের ৬টি আসনে ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১০ জনের আবেদন স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু ও বাসদ প্রার্থীর আবেদন স্থগিত থাকলেও বিএনপির জয়নুল আবেদীনের মনোনয়ন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মতে, মনোনয়ন বাতিলের প্রধান চারটি কারণ হলো—স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল, ঋণখেলাপি হওয়া, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এবং দলীয় মনোনয়নে অনুমোদিত ব্যক্তির স্বাক্ষরের অভাব।
আপিল ও পরবর্তী সময়সূচি:
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ৫ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আপিল করতে পারবেন। ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিল নিষ্পত্তি হবে। এরপর ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২০২৬, নির্বাচন কমিশন আপিল, মাহমুদুর রহমান মান্না বৈধতা, তাসনিম জারা মনোনয়ন বাতিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
রিপোর্টারের নাম 

























