ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ক্ষমতা হাতে এলে জাদুর কাঠি আর অঢেল সম্পদ: বদিউল আলম মজুমদার

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশে ক্ষমতা এবং অর্থবিত্ত একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর প্রার্থীদের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যেন তাদের হাতে কোনো ‘জাদুর কাঠি’ চলে আসে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানান, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রক্তের ঋণ শোধ করতে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় কেমন নির্বাচনী ইশতেহার চাই’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ক্ষমতার জাদুর কাঠি ও রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ:
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে যে প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার পর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি এটিকে ‘জাদুর কাঠি’র প্রভাব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতির যে ব্যবসায়ীকরণ শুরু হয়েছে, তা বন্ধের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে হবে। রাজনীতিবিদরা কীভাবে এই অনৈতিক সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করবেন, তা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচনী ইশতেহার: ভোটারদের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি:
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ইশতেহারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভোটারদের একটি ‘চুক্তিনামা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যদি দলগুলো রক্ষা না করে, তবে নাগরিকদের যাতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকে, তেমন আইনি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘দিন বদলের সনদ’ অমান্য করার উদাহরণ টেনে বলেন, অঙ্গীকার ভুলে যাওয়ার মাশুল তাদের দিতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই আইন মেনে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত হতে হবে।

জুলাই বিপ্লব ও আগামীর প্রত্যাশা:
বদিউল আলম মজুমদার স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটটি বহু প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। তিনি বলেন, “আমরা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি।” এই ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ইশতেহারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে, তা নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

ক্ষমতা হাতে এলে জাদুর কাঠি আর অঢেল সম্পদ: বদিউল আলম মজুমদার

আপডেট সময় : ১২:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অভিযোগ করেছেন যে, বাংলাদেশে ক্ষমতা এবং অর্থবিত্ত একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর প্রার্থীদের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যেন তাদের হাতে কোনো ‘জাদুর কাঠি’ চলে আসে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানান, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রক্তের ঋণ শোধ করতে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থবিত্তের পাহাড় গড়ার সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় কেমন নির্বাচনী ইশতেহার চাই’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ক্ষমতার জাদুর কাঠি ও রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ:
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে যে প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার পর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি এটিকে ‘জাদুর কাঠি’র প্রভাব হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতির যে ব্যবসায়ীকরণ শুরু হয়েছে, তা বন্ধের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে হবে। রাজনীতিবিদরা কীভাবে এই অনৈতিক সম্পদের মালিক হওয়ার সুযোগ বন্ধ করবেন, তা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচনী ইশতেহার: ভোটারদের সঙ্গে এক অলিখিত চুক্তি:
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ইশতেহারকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভোটারদের একটি ‘চুক্তিনামা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো যদি দলগুলো রক্ষা না করে, তবে নাগরিকদের যাতে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ থাকে, তেমন আইনি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘দিন বদলের সনদ’ অমান্য করার উদাহরণ টেনে বলেন, অঙ্গীকার ভুলে যাওয়ার মাশুল তাদের দিতে হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই আইন মেনে এবং গণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত হতে হবে।

জুলাই বিপ্লব ও আগামীর প্রত্যাশা:
বদিউল আলম মজুমদার স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটটি বহু প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত। তিনি বলেন, “আমরা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি।” এই ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ইশতেহারে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখা। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো ‘হ্যাঁ’ নাকি ‘না’ ভোটের পক্ষে, তা নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।