ঢাকা ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়

দাফনের চতুর্থ দিনেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কবরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল নিয়ে আসছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের বেইলি ব্রিজ থেকে জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার কবর পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন।

এরই মধ্যে সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস,সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার কবর দিয়ারত করে সাধারণ মানুষখালেদা জিয়ার কবর দিয়ারত করে সাধারণ মানুষ

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দল, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমবায় দল এবং জিয়া সাংস্কৃতিক ফোরাম নামে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়াও অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত করছেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আনা ফুলে ছেয়ে গেছে বেগম জিয়ার কবর। ঢাকার বাইরে থেকেও বিএনপির অনেক নেতা আসছেন তার অনুসারীদের নিয়ে।

কয়েক জানান, এক ধরনের ভালোবাসা থেকেই তারা ছুটে এসেছেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে এসেছেন যুবদল কর্মী শিপন আবেদীন। তিনি বলেন, বুঝতে যখন শিখেছি, তখনই খালেদা জিয়াকে দেখেছি। তার বিভিন্ন সমাবেশে গিয়েছি। বক্তব্য শুনেছি। তাই তার মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিতে পারিনি। এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই কবর জিয়ারত করতে এসেছি।

দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়

ঢাকার শনির আখড়া থেকে দুই সন্তান রাফি ও রাইসাকে নিয়ে কবর জিয়ারত করতে এসেছেন মেঘলা বেগম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসলাম। তাকে যেন মহান আল্লাহ বেহেশত দান করেন সে দোয়া করছি।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির চেয়ারপারসন। পর দিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়াকে দাফন করা হয়।  তখন পরিবার, বিএনপির শীর্ষ নেতা ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বাইরে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি)  সকাল থেকেই সর্ব সাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকেই হাজারও মানুষ ছুটে আসছেন। শুক্রবার দিনভরও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়

আপডেট সময় : ০১:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

দাফনের চতুর্থ দিনেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কবরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল নিয়ে আসছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের বেইলি ব্রিজ থেকে জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার কবর পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন।

এরই মধ্যে সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস,সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতে অংশ নেন।

খালেদা জিয়ার কবর দিয়ারত করে সাধারণ মানুষখালেদা জিয়ার কবর দিয়ারত করে সাধারণ মানুষ

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দল, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমবায় দল এবং জিয়া সাংস্কৃতিক ফোরাম নামে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এছাড়াও অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত করছেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আনা ফুলে ছেয়ে গেছে বেগম জিয়ার কবর। ঢাকার বাইরে থেকেও বিএনপির অনেক নেতা আসছেন তার অনুসারীদের নিয়ে।

কয়েক জানান, এক ধরনের ভালোবাসা থেকেই তারা ছুটে এসেছেন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে এসেছেন যুবদল কর্মী শিপন আবেদীন। তিনি বলেন, বুঝতে যখন শিখেছি, তখনই খালেদা জিয়াকে দেখেছি। তার বিভিন্ন সমাবেশে গিয়েছি। বক্তব্য শুনেছি। তাই তার মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে নিতে পারিনি। এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকেই কবর জিয়ারত করতে এসেছি।

দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়দাফনের চতুর্থ দিনেও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষের ভিড়

ঢাকার শনির আখড়া থেকে দুই সন্তান রাফি ও রাইসাকে নিয়ে কবর জিয়ারত করতে এসেছেন মেঘলা বেগম। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে আসলাম। তাকে যেন মহান আল্লাহ বেহেশত দান করেন সে দোয়া করছি।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির চেয়ারপারসন। পর দিন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে স্মরণকালের রেকর্ড মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়াকে দাফন করা হয়।  তখন পরিবার, বিএনপির শীর্ষ নেতা ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বাইরে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি)  সকাল থেকেই সর্ব সাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকেই হাজারও মানুষ ছুটে আসছেন। শুক্রবার দিনভরও মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।