ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন: এক দশক পরও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় স্বজনরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় নিহতদের পরিবার

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার আজ ১০ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা হয় ২০১৭ সালে। রায় ঘোষণার পর সাত বছর কেটে গেলেও খুনিদের সাজা এখনও কার্যকর হয়নি। দীর্ঘ এই অপেক্ষায় স্বজনদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অপহরণের তিন দিন পর একে একে সাতজনের মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠেছিল।

এই ঘটনায় নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেন। কিন্তু প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

জানা যায়, সাত খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালতে আপিলের রায়ে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। নিহতের পরিবারগুলো এই রায়কে সন্তোষজনক বললেও, দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছেন।

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘দশ বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় আছি। আসামিপক্ষের লোকজন এখনও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। উপার্জনক্ষম সাতজন মানুষকে হারিয়ে আমাদের পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন সরকারের কাছে শুধু দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছি।’

নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিচার পাবো কিনা তা জানি না। কেন দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে, তা বুঝতে পারছি না।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘এই খুনের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে বিচার ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমরা চাই রায় বহাল রেখে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণার প্রত্যাশা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ মোট সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর তাঁদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারিদের হামলা: ডিবি সদস্যসহ আহত ৭, নগদ ৪৬ লাখ টাকাসহ আটক ১৫

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন: এক দশক পরও রায় কার্যকরের অপেক্ষায় স্বজনরা

আপডেট সময় : ১০:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় নিহতদের পরিবার

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার আজ ১০ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা হয় ২০১৭ সালে। রায় ঘোষণার পর সাত বছর কেটে গেলেও খুনিদের সাজা এখনও কার্যকর হয়নি। দীর্ঘ এই অপেক্ষায় স্বজনদের মনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অপহরণের তিন দিন পর একে একে সাতজনের মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে উঠেছিল।

এই ঘটনায় নিম্ন আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দেন। কিন্তু প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

জানা যায়, সাত খুনের মামলায় ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাব-১১-এর চাকরিচ্যুত সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

২০১৮ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালতে আপিলের রায়ে ১৫ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। নিহতের পরিবারগুলো এই রায়কে সন্তোষজনক বললেও, দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছেন।

নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘দশ বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় আছি। আসামিপক্ষের লোকজন এখনও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। উপার্জনক্ষম সাতজন মানুষকে হারিয়ে আমাদের পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন সরকারের কাছে শুধু দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করছি।’

নিহত তাজুলের বাবা আবুল খায়ের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিচার পাবো কিনা তা জানি না। কেন দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি আপিল বিভাগে ঝুলে আছে, তা বুঝতে পারছি না।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘এই খুনের সঙ্গে প্রভাবশালীরা জড়িত। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে বিচার ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমরা চাই রায় বহাল রেখে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণার প্রত্যাশা করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ মোট সাতজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর তাঁদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।