দীর্ঘ ২৯ বছর পর, জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনাটিকে এখন হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্তের জন্য রমনা থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক আজ সোমবার এই আদেশ দেন।
সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তাদের তদন্তে নিরপেক্ষ ছিল না। তাই ২০২১ সালে পিবিআই-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নীলা চৌধুরী যে নারাজি আবেদন করেছিলেন, আদালত আজ তা মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুটিকে হত্যা হিসেবে ধরে মামলা করার নির্দেশ দেন।
আইনজীবী ফারুক আরও বলেন, সালমানের মৃত্যুর দিন তাঁর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরীর স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। পরে, ১৯৯৭ সালে রিজভি আহমেদ নামের এক ব্যক্তি আদালতে জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেন যে সালমান শাহকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়। এরপর সালমানের বাবা যাদের নাম উল্লেখ করে নালিশি হত্যা মামলা করেছিলেন, এখন তাঁদের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সালমান শাহের মামা, চিত্রপরিচালক আলমগীর কুমকুম বলেন, ‘সালমানের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের এই আদেশে আমরা খুশি। আমরা বিশ্বাস করি সালমান আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনিদের বিচার চাই।’
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সালমান শাহ খুন হননি, তিনি আত্মহত্যা করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের লাশ উদ্ধারের পর তাঁর বাবা অপমৃত্যুর মামলা করেন। ১৯৯৭ সালে সিআইডি তাদের প্রতিবেদনে এটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করে। সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সালমানের বাবার রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের সেই প্রতিবেদনেও মৃত্যুটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলা হয়। এরপর ২০১৫ সালে সালমানের মা নীলা চৌধুরী আবার রিভিশন আবেদন করলে ২০১৬ সালে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকায় ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের লাশ পাওয়া যায়। সে সময় বাংলা সিনেমায় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া।
রিপোর্টারের নাম 
























