ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: ১১তম দিনে আদালতে সাক্ষ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়াসহ মোট সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ পেশ করা হবে। আজকের দিনে দুজন সাক্ষী তাঁদের জবানবন্দি দেবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দশম দিনের সাক্ষ্য দেন শহীদ ওমর ফারুকের বাবা চান মিয়া। ১৪তম সাক্ষী হিসেবে তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে পলাতক আট আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার।

৮ অক্টোবর নবম দিনের মতো এএসআই মনিরুল ইসলাম জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ৭ অক্টোবর সাক্ষ্য দেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম, যিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে একাত্তর টিভির স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম অনিকের জেরা শেষ হয়।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ দিনে অনিকসহ দুজন জবানবন্দি দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামের জেরা শেষে আট নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর শফিকুল সাত নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। একই দিন প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমানও সাক্ষ্য দেন।

১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বরও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং ৫ আগস্ট আশুলিয়ার সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও, এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক।

গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনায় একজন জীবিত থাকলেও, তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোর মামলা: ১১তম দিনে আদালতে সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

গত বছরের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়াসহ মোট সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ পেশ করা হবে। আজকের দিনে দুজন সাক্ষী তাঁদের জবানবন্দি দেবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দশম দিনের সাক্ষ্য দেন শহীদ ওমর ফারুকের বাবা চান মিয়া। ১৪তম সাক্ষী হিসেবে তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে পলাতক আট আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার।

৮ অক্টোবর নবম দিনের মতো এএসআই মনিরুল ইসলাম জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। ৭ অক্টোবর সাক্ষ্য দেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম, যিনি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর সপ্তম দিনে একাত্তর টিভির স্থানীয় সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম অনিকের জেরা শেষ হয়।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ দিনে অনিকসহ দুজন জবানবন্দি দেন। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামের জেরা শেষে আট নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর শফিকুল সাত নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। একই দিন প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমানও সাক্ষ্য দেন।

১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বরও মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং ৫ আগস্ট আশুলিয়ার সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন। ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও, এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তাঁর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনও পলাতক।

গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনায় একজন জীবিত থাকলেও, তাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়।