আজ সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাংলা শিশুসাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া এমন এক নাম যাঁকে আলাদা করে পরিচয় করিয়ে দিতে হয় না। তাঁর ছড়ার জগৎ যেমন রসাত্মক, তেমনি সব বয়সি পাঠকের উপযোগী। সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ই জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজানে। দারিদ্রতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তৃতীয় শ্রেণিতেই সমাপ্তি ঘটে। তবে বইয়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণ, শব্দের প্রতি মুগ্ধতা এবং ছন্দের প্রতি অস্বাভাবিক টান তাঁকে বানিয়ে তুলে বাংলা ছড়ার সম্রাট।
জীবিকার প্রয়োজনে কম বয়সেই দায়িত্ব নিতে হয়েছে সংসারের, করতে হয়েছে নানা ছোটোখাটো কাজ। তবে সবকিছু পেছনে ফেলে দিনশেষে তিনি ছুটে গিয়েছেন ছড়ার কাছে, ছন্দের কাছে। তেমনিভাবে হুট করে একদিন হাতে এসে পৌঁছাল সুনির্মল বসুর ‘হুলুস্থুল’ নামক ছড়ার বই। এই বই তাঁর অন্তর্জগতে বেশ নাড়া দিল। ঠিক করেন, ছড়া লিখবেন। তারপর মুখে মুখে ছড়া বাঁধতে লাগলেন। টুকটাক লেখাও পাঠালেন কিছু ম্যাগাজিন, পত্রিকায়। ১৯৬৮ সালের ৩ জুলাই ‘খেলাঘর’ নামের একটি পত্রিকায় প্রকাশ হয় তাঁর প্রথম ছড়া “বৃষ্টি নেমে আয়”।
সাল ১৯৬০। তখন তিনি চট্টগ্রামে বাবুর্চির কাজ করেন। খবর পেলেন ঢাকায় পারিশ্রমিক বেশি, চলে আসলেন ঢাকায়। কিছু মেস ঘুরেফিরে কাজ জুটিয়ে ফেললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুর্চির কাজ, চতুর্থ শ্রেণির। মাঝে পদোন্নতি পেয়ে তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হয়েছিলেন। অবসর নেন স্টোর কিপার হিসেবে।
ঢাকা শহরের হট্টগোল, কোলাহল, যান্ত্রিকতাকে দূরে ঠেলে ২০২১ সালে ফিরে যান পৈতৃক ভিটা চট্টগ্রামের রাউজানে। তিনি বিশ্বাস করতেন শিশুর জীবন পরিবর্তন করতে একটি বই-ই যথেষ্ট, সেই বিশ্বাস থেকে হয়ত গড়ে তুললেন ‘সুকুমার শিশু পাঠাগার’।
সুকুমার বড়ুয়ার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট ১৮টি। এগুলো হলো: ‘লেজ আবিষ্কার,’, ‘ছোটোদের হাট’, ‘কোয়াল খাইয়ে’, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে’, ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটোদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড)’, ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’ ও ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৭ সালে একুশে পদক প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছে তাঁর সাহিত্যকীর্তি।
রিপোর্টারের নাম 

























