ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বজ্রপাতে দেশে মৃত্যু মিছিল, বাড়ছে আতঙ্ক

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুইদিনে দেশের নয়টি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে, এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে টানা দুই দিনে এই দুর্যোগে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। গতকাল রবিবার দেশে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে আজ সোমবার নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলায় তিনজন করে, বগুড়ায় দুইজন এবং হাতিয়ায় একজনসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন।

আমার দেশ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, গতকাল রবিবার সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাইবান্ধা জেলায়, যেখানে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলায় দুইজন করে এবং নাটোর, পঞ্চগড়, বগুড়া ও শেরপুর জেলায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত নিয়ে আগামী দুইদিনের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সেই সাথে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। ফলে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের সতর্কবার্তায় জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে ওইসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের নৌবন্দরসমূহে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বজ্রপাত হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ও সিলেটে এই ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, পানি বা জলাশয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে, যার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা এবং উত্তরাঞ্চল বিশেষত রংপুর অঞ্চল উল্লেখযোগ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরের মতলবে মাদকবিরোধী সমাবেশ

বজ্রপাতে দেশে মৃত্যু মিছিল, বাড়ছে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুইদিনে দেশের নয়টি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ২৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে, এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। চলতি বছরে টানা দুই দিনে এই দুর্যোগে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। গতকাল রবিবার দেশে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার মধ্যে আজ সোমবার নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলায় তিনজন করে, বগুড়ায় দুইজন এবং হাতিয়ায় একজনসহ মোট নয়জন নিহত হয়েছেন।

আমার দেশ প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, গতকাল রবিবার সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাইবান্ধা জেলায়, যেখানে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলায় দুইজন করে এবং নাটোর, পঞ্চগড়, বগুড়া ও শেরপুর জেলায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত নিয়ে আগামী দুইদিনের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সেই সাথে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। ফলে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের সতর্কবার্তায় জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে ওইসব এলাকার কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের নৌবন্দরসমূহে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বজ্রপাত হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ও সিলেটে এই ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, পানি বা জলাশয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বেশি ঘটে, যার মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা এবং উত্তরাঞ্চল বিশেষত রংপুর অঞ্চল উল্লেখযোগ্য।