ভারতের একজন শীর্ষ কূটনীতিকের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের গোপন বৈঠককে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত আগস্টে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকের বিষয়টি দীর্ঘ সময় গোপন রাখার পর ডিসেম্বরের শেষে এসে স্বীকার করে নেওয়াকে ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের ভারত সফর পরবর্তী মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তৎকালীন সময়ে জিএম কাদের যেমন বলেছিলেন—’ভারতের অনুমতি ছাড়া আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা যাবে না’, ঠিক একইভাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও দীর্ঘ বিরতির পর জানালেন, ভারতীয় কূটনীতিকই বৈঠকটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন। ফলে অনেকেই জামায়াত আমিরের এই অবস্থানের মধ্যে জাতীয় পার্টির সেই পুরনো রাজনৈতিক কৌশলের মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ-উর রহমান এই গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, কোনো দেশের কূটনীতিকের সাথে রাজনৈতিক দলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্বাভাবিক বিষয় হলেও তা গোপন রাখা ভিন্ন কোনো অর্থ বহন করে। এর পেছনে জামায়াতের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকতে পারে, যা হয়তো এতদিনেও সফল না হওয়ায় এখন প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান নিজেই স্বীকার করেন যে, অন্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে দেখা করলেও ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার শর্ত দিয়েছিলেন। জামায়াত আমির প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ করা গেলে ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়? তিনি দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয় পক্ষের স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার ভারতে দীর্ঘ অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও ভারত সরকারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে। জামায়াতের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
রিপোর্টারের নাম 

























