ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নতুন বছর ২০২৬-এর আগমন: নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঘিরে জনমনে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী আবহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল নতুন বছর ২০২৬। আজ বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ১৭ কোটি মানুষের মনে এক নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা উঁকি দিচ্ছে। এবারের বছরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পটপরিবর্তনের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রত্যাশায় দিন গুনছে দেশবাসী। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশের ১৩ কোটি ভোটার, যার মধ্যে ৪৪ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবারের নির্বাচনের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তাঁর এই ফেরা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিগত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা কাটিয়ে দেশে পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। বিশেষ করে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দূর হওয়া এবং সমাজে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাওয়াই এখন প্রধান কাম্য।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ বছরের নভেম্বরে ‘স্বল্পোন্নত’ বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি করবে। বিদায়ী বছরে মব সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্প-সংস্কৃতির ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনা জনমনে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, নতুন বছরে তার লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে সবাই আশাবাদী। বিশেষ করে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এবং স্বাধীনভাবে সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চুক্তি

নতুন বছর ২০২৬-এর আগমন: নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঘিরে জনমনে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী আবহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল নতুন বছর ২০২৬। আজ বছরের প্রথম সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ১৭ কোটি মানুষের মনে এক নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা উঁকি দিচ্ছে। এবারের বছরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পটপরিবর্তনের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রত্যাশায় দিন গুনছে দেশবাসী। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেশের ১৩ কোটি ভোটার, যার মধ্যে ৪৪ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবারের নির্বাচনের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তাঁর এই ফেরা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিগত ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার গঠনের মাধ্যমে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা কাটিয়ে দেশে পূর্ণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে। বিশেষ করে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দূর হওয়া এবং সমাজে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাওয়াই এখন প্রধান কাম্য।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি কমে ৮ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ বছরের নভেম্বরে ‘স্বল্পোন্নত’ বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসার কথা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ তৈরি করবে। বিদায়ী বছরে মব সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং শিল্প-সংস্কৃতির ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনা জনমনে যে ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল, নতুন বছরে তার লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে সবাই আশাবাদী। বিশেষ করে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে পাওয়া এবং স্বাধীনভাবে সংস্কৃতি চর্চার পরিবেশ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।