বাংলাদেশের ময়মনসিংহে একটি পোশাক কারখানায় বাজেন্দ্র বিশ্বাস (৪২) নামে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত ১০ দিনের ব্যবধানে এটি তৃতীয় কোনো হিন্দু ব্যক্তির খুনের ঘটনা, যা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিহিত বাজেন্দ্র বিশ্বাস বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং ওই পোশাক কারখানার স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সাধারণত সরকারি স্থাপনা, ব্যাংক এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানার নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ওই পোশাক কারখানার ভেতরে আনসার সদস্যদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বাদানুবাদ হয়। এরই একপর্যায়ে নোমান মিয়া নামের এক সহকর্মী শটগান দিয়ে গুলি চালালে বাজেন্দ্র বিশ্বাস গুরুতর আহত হন। পুলিশ জানায়, নোমান মিয়া (২২) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর এলাকার লুৎফুর রহমানের ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কারখানার ভেতরে বসে থাকার সময় অসাবধানতাবশত নোমানের শটগান থেকে গুলি বেরিয়ে বাজেন্দ্রর বাম পায়ে বিদ্ধ হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাঁকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ দিনের মধ্যে ময়মনসিংহে একইভাবে আরও দুইজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর আগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তি এবং অমৃত মন্ডল নামের অপর একজন ব্যক্তিকে প্রায় একইভাবে হত্যা করা হয়। দীপু চন্দ্র দাসও ময়মনসিংহের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। একের পর এক প্রায় একই কায়দায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত নোমান মিয়াকে আটক করেছে এবং এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত কোনো হামলা, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























