ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়ার জন্মস্থান নিয়ে আলোচনা: ভারত না বাংলাদেশ—কী বলছে ইতিহাস?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রদেশের জলপাইগুড়িতে (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর মা তৈয়বা মজুমদারের আদি নিবাসও পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চাঁদবাড়ি গ্রামে। এই পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকেই অনেকে তাঁর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসূত্রে অবিভক্ত ভারতের বর্তমান ভূখণ্ডে জন্ম নিলেও তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

খালেদা জিয়ার পিতা ইস্কান্দার আলী মজুমদার পেশায় একজন চা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস ছিল বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে চলে আসে। ফলস্বরূপ, জন্মস্থান ভারতের বর্তমান ভৌগোলিক সীমায় হলেও দেশভাগের পর তাঁর পরিবার স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থিতু হয় এবং তিনি এ দেশের নাগরিক হিসেবেই বড় হন ও পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির এই মহীরুহ দীর্ঘদিন ধরে বহুমুখী শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হৃৎপিণ্ডে পেসমেকার ও স্টেন্ট বসানো থাকলেও নিউমোনিয়ার কারণে তাঁর শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে যায়। শেষ সময়ে তাঁকে ভেন্টিলেশন ও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত

বেগম খালেদা জিয়ার জন্মস্থান নিয়ে আলোচনা: ভারত না বাংলাদেশ—কী বলছে ইতিহাস?

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রদেশের জলপাইগুড়িতে (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর মা তৈয়বা মজুমদারের আদি নিবাসও পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চাঁদবাড়ি গ্রামে। এই পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকেই অনেকে তাঁর জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, জন্মসূত্রে অবিভক্ত ভারতের বর্তমান ভূখণ্ডে জন্ম নিলেও তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

খালেদা জিয়ার পিতা ইস্কান্দার আলী মজুমদার পেশায় একজন চা ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস ছিল বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে চলে আসে। ফলস্বরূপ, জন্মস্থান ভারতের বর্তমান ভৌগোলিক সীমায় হলেও দেশভাগের পর তাঁর পরিবার স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে থিতু হয় এবং তিনি এ দেশের নাগরিক হিসেবেই বড় হন ও পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতির এই মহীরুহ দীর্ঘদিন ধরে বহুমুখী শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হৃৎপিণ্ডে পেসমেকার ও স্টেন্ট বসানো থাকলেও নিউমোনিয়ার কারণে তাঁর শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে যায়। শেষ সময়ে তাঁকে ভেন্টিলেশন ও লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।