ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাড়িবহরে হামলা নিয়ে এ কে আজাদের মন্তব্য: ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীও এমন করেননি’

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং তার গাড়িবহরে হামলা হয়। প্রায় ১৫টি গাড়ির বহরের মধ্যে দুটির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ কে আজাদ তার বহর নিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পমানন্দপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি মশাল মিছিল বের করে। এই সময় তারা শিল্পপতি এ কে আজাদকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

জানা গেছে, গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রবিবার বিকাল ৪টার দিকে এ কে আজাদ পরমানন্দপুর বাজারে যান। প্রথমে তিনি পরমানন্দপুর বাজার সংলগ্ন জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাজার এলাকায় এসে গণসংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমান ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি নান্নু মোল্লার নেতৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

মিছিলকারীরা এ কে আজাদকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মিছিলকারীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে এ কে আজাদকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেন। ওই সময় মিছিলকারীদের নায়াব ইউসুফের (বিএনপি নেতা কামাল ইউসুফ) পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ কে আজাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর পুলিশের পরামর্শে এ কে আজাদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পরমানন্দপুর মাঠে অবস্থান নেওয়া এ কে আজাদের গাড়িবহর পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে বহরের শেষের দুটি গাড়িতে আখ দিয়ে আঘাত করে কাচ ভাঙচুর করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন অবশ্য দাবি করেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়নে যুবদলের কোনো কমিটি নেই এবং পরমানন্দপুরে তার কোনো লোক এ ঘটনা ঘটায়নি।

ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, রাজনীতির এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকও এ জাতীয় আচরণ করেননি। নায়াব ইউসুফের কাছ থেকে এ জাতীয় আচরণ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেনি। এ সব ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। তিনি এ ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নায়াব ইউসুফ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এই সবের মধ্যে নাই। আমি আমার নেতাকর্মীদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছি, এ জাতীয় কোনো কাজ না করতে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি ও পুলিশ সুপারকেও এ বিষয়ে নজর রাখতে বলেছি।

তার দাবি, এ কে আজাদ অনেক দিন ধরেই মাঠে আছেন, কখনও তো কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি যদি জনপ্রতিনিধি হন, তাহলে গণসংযোগ করতে ভয় পাবেন কেন? কেন তাকে পুলিশ নিয়ে যেতে হবে? আমি তো সব জায়গায় চষে বেড়াচ্ছি, আমার তো পুলিশ প্রটেকশনের দরকার হয় না। নায়াব ইউসুফ বলেন, এ কে আজাদ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব কথা বলছেন, যাতে আমার ক্ষতি হয়। তার বহরের সাথে আওয়ামী লীগ পদধারী নেতারা থাকেন। এদের দেখে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, পরমানন্দপুরে আজ ছিল হাটের দিন। সেখানে এ কে আজাদ গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন। অপরদিকে যুবদলের লোকজনও গণসংযোগ করছিল। এক সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে এলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওসি বলেন, এ সময় পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ কে আজাদের গাড়িবহর নির্বিঘ্নে পার করে দেয়।

ছাত্রদলের মশাল মিছিল

এদিকে রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হোসেনের নেতৃত্বে এই মিছিলটি বের হয়ে ব্রহ্ম সমাজ সড়ক দিয়ে জেনারেল হাসপাতালের মোড় হয়ে মুজিব সড়ক দিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলকারীরা, ‘আওয়ামী লীগের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাস্টিদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসঙ্গে’, ‘শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এক হও লড়াই করো’- এমন স্লোগান দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোণায় পুলিশের অভিযানে চোরাকারবারিদের হামলা: ডিবি সদস্যসহ আহত ৭, নগদ ৪৬ লাখ টাকাসহ আটক ১৫

গাড়িবহরে হামলা নিয়ে এ কে আজাদের মন্তব্য: ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীও এমন করেননি’

আপডেট সময় : ১০:১৩:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ গণসংযোগকালে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন এবং তার গাড়িবহরে হামলা হয়। প্রায় ১৫টি গাড়ির বহরের মধ্যে দুটির কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ কে আজাদ তার বহর নিয়ে ওই এলাকা ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের পমানন্দপুর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি মশাল মিছিল বের করে। এই সময় তারা শিল্পপতি এ কে আজাদকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

জানা গেছে, গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রবিবার বিকাল ৪টার দিকে এ কে আজাদ পরমানন্দপুর বাজারে যান। প্রথমে তিনি পরমানন্দপুর বাজার সংলগ্ন জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাজার এলাকায় এসে গণসংযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমান ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি নান্নু মোল্লার নেতৃত্বে একটি মিছিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

মিছিলকারীরা এ কে আজাদকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মিছিলকারীরা ‘অ্যাকশন অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগান দিয়ে এ কে আজাদকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেন। ওই সময় মিছিলকারীদের নায়াব ইউসুফের (বিএনপি নেতা কামাল ইউসুফ) পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ কে আজাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী তাকে ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে যুবদলের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর পুলিশের পরামর্শে এ কে আজাদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পরমানন্দপুর মাঠে অবস্থান নেওয়া এ কে আজাদের গাড়িবহর পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে বহরের শেষের দুটি গাড়িতে আখ দিয়ে আঘাত করে কাচ ভাঙচুর করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন অবশ্য দাবি করেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়নে যুবদলের কোনো কমিটি নেই এবং পরমানন্দপুরে তার কোনো লোক এ ঘটনা ঘটায়নি।

ফরিদপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, রাজনীতির এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকও এ জাতীয় আচরণ করেননি। নায়াব ইউসুফের কাছ থেকে এ জাতীয় আচরণ এলাকাবাসী প্রত্যাশা করেনি। এ সব ঘটনা রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। তিনি এ ঘটনার জন্য মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নায়াব ইউসুফ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এই সবের মধ্যে নাই। আমি আমার নেতাকর্মীদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছি, এ জাতীয় কোনো কাজ না করতে। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি ও পুলিশ সুপারকেও এ বিষয়ে নজর রাখতে বলেছি।

তার দাবি, এ কে আজাদ অনেক দিন ধরেই মাঠে আছেন, কখনও তো কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি যদি জনপ্রতিনিধি হন, তাহলে গণসংযোগ করতে ভয় পাবেন কেন? কেন তাকে পুলিশ নিয়ে যেতে হবে? আমি তো সব জায়গায় চষে বেড়াচ্ছি, আমার তো পুলিশ প্রটেকশনের দরকার হয় না। নায়াব ইউসুফ বলেন, এ কে আজাদ আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব কথা বলছেন, যাতে আমার ক্ষতি হয়। তার বহরের সাথে আওয়ামী লীগ পদধারী নেতারা থাকেন। এদের দেখে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, পরমানন্দপুরে আজ ছিল হাটের দিন। সেখানে এ কে আজাদ গণসংযোগ করতে গিয়েছিলেন। অপরদিকে যুবদলের লোকজনও গণসংযোগ করছিল। এক সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে এলে এক সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওসি বলেন, এ সময় পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এ কে আজাদের গাড়িবহর নির্বিঘ্নে পার করে দেয়।

ছাত্রদলের মশাল মিছিল

এদিকে রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হোসেনের নেতৃত্বে এই মিছিলটি বের হয়ে ব্রহ্ম সমাজ সড়ক দিয়ে জেনারেল হাসপাতালের মোড় হয়ে মুজিব সড়ক দিয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলকারীরা, ‘আওয়ামী লীগের দালালরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাস্টিদের বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসঙ্গে’, ‘শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এক হও লড়াই করো’- এমন স্লোগান দেন।